অগণতান্ত্রিক উপায়ে অন্তর্বর্তী সরকার চলছে বাংলাদেশে। নির্বাচন ছাড়াই শাসনভার চালাচ্ছেন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলি তো বটেই, আমজনতাও বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলেছে। ঘরে বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে এবার ডেডলাইন দিলেন ইউনূসও। বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা।
চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের জুন মাসের মধ্যে যেকোনও সময় সাধারণ নির্বাচন করা যেতে পারে জানালেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। বর্তমানে জাপান সফরে গিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। বুধবার সেখানে রাজধানী টোকিও থেকেই বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করলেন তিনি। দ্রুত সাধারণ নির্বাচন চেয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বিশাল মিছিল বের করে খালেদা জিয়ার দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি ওরফে বিএনপি। তাই দেরি না করে সুদূর জাপান থেকেই বাংলাদেশে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করে দিলেন ইউনূস।
বুধবার ইউনূস আরও বলেন, নির্বাচনী সংস্কারের কাজ যদি মন্থর গতিতে চলে, সেক্ষেত্রে বেশি সময় লাগতে পারে। তবে তা অনন্তকাল ধরে চলবে এমনটা নয়। যত দ্রুত সম্ভব ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে করতে হবে, নাহলে অন্ততপক্ষে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করতেই হবে।
যদিও রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতা দখলের জন্য ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে বলে দাবি ইউনূসের। তিনি স্পষ্টতই জানান, “ভোটগ্রহণের পর যখন নির্বাচিত সরকার শাসনভার গ্রহণ করবে, তখন আমরা দায়িত্ব ছেড়ে দেব। জনগণকে বারবার জোর করে নির্বাচনের কথা বলানো হচ্ছে, কারণ রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতা দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার আসনে বসার জন্য বড্ড অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। তাই আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যত দ্রুত সংস্কার সম্পন্ন হবে, তত তাড়াতাড়ি ওই ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা হবে।”
বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ়-জ়ামানও সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদের নির্বাচনের দাবি তোলেন। খালেদা পুত্র তারেক রহমানও নির্বাচনের দিনক্ষণ না পিছোতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের নির্বাচন করা নিয়ে ইউনূসকে ডেডলাইন বেঁধে দেন বিএনপি নেতা। বাংলাদেশের বুকে নির্বাচনের দাবিতে শক্তি প্রদর্শনও করে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি।
