ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে চিনা পড়ুয়ারা। বিদেশি পড়ুয়াদের ভিসা নিয়ে আগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছিল আমেরিকা। আর এবার চিনা পড়ুয়াদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের। বুধবার মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো স্পষ্টতই জানান, আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য আসা চিনা পড়ুয়াদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এনিয়ে বিবৃতি জারি করে রুবিও বলেন, “সংবেদনশীল কোনও বিষয়ে পড়াশোনা করছেন অথবা চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে জড়িত থাকলে, সেই পড়ুয়াদের ভিসা বাতিল করতে পারে আমেরিকা।” ভারতের পর সবচেয়ে বেশি পড়ুয়া চিন থেকেই আমেরিকায় পড়াশোনা করতে যান। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া আমেরিকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন। মোট বিদেশি পড়ুয়াদের প্রায় এক চতুর্থাংশই চিনের পড়ুয়া।
চিনা পড়ুয়াদের ভিসা আক্রমণাত্মকভাব বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন রুবিও। বিদেশি পড়ুয়াদের কেরিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ তৈরি হয়েছে আমেরিকায়। বিদেশি পড়ুয়াদের আতশকাচের তলায় রাখছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দিন দিন বিদেশি পড়ুয়াদের উপর বিধিনিষেধ আরও কঠোরতর হচ্ছে। মঙ্গলবারই বিদেশি পড়ুয়াদের নতুন ভিসার জন্য ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ করে দিয়েছেন রুবিও। উল্টে পড়ুয়াদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নজরদারি শুরু হয়েছে।
রুবিওর আরও দাবি, “দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকানদের হেনস্থা করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে। এমনকী বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে বিদেশে কর্তৃপক্ষের হাতে তাদের শাস্তিও পেতে হয়েছে। আর তাই এবার থেকে বিদেশি পড়ুয়াদের জন্য নতুন ভিসা নিয়ম ঘোষণা করছি। আমেরিকার জীবনশৈলীতে বাক স্বাধীনতার অধিকার গুরত্বপূর্ণ। এটা জন্মগত অধিকার। এতে বিদেশি কর্তৃপক্ষের নাক গলানোর অধিকার নেই।”
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিদেশি পড়ুয়াদের ভর্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ করছে আমেরিকা। ইতিমধ্যেই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি পড়ুয়াদের ভর্তি নিষিদ্ধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে ফেডারেল কোর্ট। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধের প্রতিবাদ প্রদর্শন করায় একাধিক বিদেশি পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগও নিয়েছিল মার্কিন অভিবাসন দফতর।
