আলিপুরদুয়ারের আকাশ তখনও মোদীর বিমানের শব্দের মতোই গমগমে। নবান্নের ১৪ তলায় জবাব দিতে বসে পড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জবাব দিলেন মহিলা হয়ে সিঁদুরের অসম্মান সইবেন না বলে আর, মোদীর মন্ত্রীর ‘অপারেশন বেঙ্গল’-এর উত্তর দিলেন পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে। বললেন, “কালকেই ভোট করুন। আমরা রেডি আছি। বাংলার মানুষ এই অপমানের জবাব দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে।” মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন, এত বড় নেতা, কিন্তু আমেরিকা বললে এক সেকেন্ডে চুপ করে যান?
আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে রাজ্যকে নানা বিষয়ে আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তবে, ‘দিদি ও দিদি’ শোনা যায়নি, এমন কি একবারও মোদী মুখেই আনেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। অনেকেই মোদীর ভাষণকে ‘মিঠেকড়া’ বলছেন। সব দিক বাঁচিয়ে বলা কিছু পাঞ্চ লাইন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা জবাব দিতে দিতে গিয়ে টেনে আনলেন মোদীর স্ত্রীকেও। ফলে, মোদীর ‘মিঠেকড়া’ বক্তৃতার উল্টো দিকে দিদি আজ চালিয়ে ব্যাটিং করলেন। প্রথমেই মোদীকে বিঁধলেন সিঁদুর নিয়ে। বললেন, “উনি আগে নিজেকে চা-ওয়ালা বলতেন। পরে বললেন পাহারাদার আর এখন সিঁদুর বেচতে এসেছেন?” এর পরেই মমতা বলেন, “আমরা সিঁদুরকে সম্মান করি। মহিলারা তাঁর স্বামীর থেকে সিঁদুর পরেন। আপনি সেই সিঁদুরকে অসম্মান করছেন। আপনি সকলের স্বামী নন। নিজের স্ত্রীকে সিঁদুর পরাচ্ছেন না কেন? অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে এ কথা বলতে হচ্ছে।’’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ যদিও মনে করছে, এখানেই ‘বিলো দ্য বেল্ট’ চলে গেছেন মমতা।
পহেলগাম জঙ্গি হামলার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। প্রথমে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া, তার পর পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ছাউনিতে আকাশ হামলা। পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে সেনা। সেই সংঘাতে আপাতত বিরতি পড়েছে। তারপর থেকে সর্বদলীয় প্রতিনিধিরা বিদেশ ঘুরছেন। বহু মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন মোদীর নীতির কথা। তেমন একটি দলে জাপান-কোরিয়া-সিঙ্গাপুর গিয়েছেন তৃণমূলে দু নম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আপাত বিরল শান্তিকল্যাণ সম্ভব করেছে পাকিস্তান। এই আবহে মোদী আলিপুরদুয়ার থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে যতটা বলেছেন, তাতে ঘি ঢেলেছেন তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য। যিনি ‘অপারেশন বেঙ্গল’ বলে মমতাকে ফুলটস দিয়ে ফেলেছেন। মমতা সরাসরি মোদীকে প্রশ্ন করেছেন, পহেলগামের আততায়ীরা ধরা পড়েনি কেন? একই সঙ্গে পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন, “কালকেই ভোট করুন। আমরা রেডি আছি। বাংলার মানুষ এই অপমানের জবাব দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে।” মোদীকে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, “এত বড় নেতা, কিন্তু আমেরিকা বললে এক সেকেন্ডে চুপ?” কিন্তু রাজ্যের প্রাপ্য মেটানো ছাড়া মোদীর রাজ্যের অসহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে তেমন কিছুই বলতে শোনা যায়নি মমতাকে।
সাংবাদিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, আলিপুরদুয়ার থেকে মোদী যা যা বলে গেলেন তার প্রেক্ষিতে কি অভিষেক বিদেশ সফর কাটছাঁট করে ফিরে আসবেন? মমতা বলেন, “না। উনি মাতৃভূমির জন্য গিয়েছেন। যত দিন আমাদের পার্টি বেঁচে আছে, আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাব। এটাই আমাদের কাজ। কেউ এখন দেশে ফিরবে না। ওঁর কাজ উনি করবেন। দেশ কারও একার নয়। দেশ আমাদের সবার।”
