পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ট্যারিফ নিয়ে কোনও চর্চা হয়নি। ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি নিয়ে বারবার নিজের কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী সম্প্রতি মার্কিন আদালতে শুল্ক বসানোর কথা বলাতেই দু দেশের মধ্যে বড়সড় সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। আর এরপরেই এই বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা, দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে শুল্ক নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।
আজ বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, গত ৭ মে পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। আর সেই সময় থেকে ১০ মে পর্যন্ত ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কখনই শুল্ক নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা হয়নি। এমনকী ভারত এবং পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে যে আলোচনা হয় সেখানে কর নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও এদিন স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বিদেশমন্ত্রকের তরফে।
যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। বলে রাখা প্রয়োজন, মার্কিন মসনদে বসার পরেই একাধিক দেশের উপর শুল্ক বসিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী ভারতের উপরেও শুল্ক বসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর এর মধ্যেই ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আবহে মধ্যস্থতা করতে ময়দানে নেমে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তড়িঘড়ি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করে তিনি দাবি করেন যে তাঁর কথাতেই ভারত এবং পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতির পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে।
যদিও প্রবল চাপের মুখে ভারতের তরফে সেই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন আদালতে ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা হয়। আর সেখানে দাবি করা হয় যে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপেই ভারত-পাক বড় যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এমনকী তা সম্ভব হয়েছে আমেরিকার কর বসানোর হুমকিতে। পাশাপাশি দুই দেশের সঙ্গে বাণিজ্য প্রস্তাবও বড় ভূমিকা নেয় বলেও আদালতে দাবি করে ট্রাম্প প্রশাসন।
যা নিয়ে নতুন করে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আর এরপরেই এই ইস্যুতে ফের একবার অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। যদিও এর আগে একাধিকবার সংঘর্ষ বিরতিতে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিদেশমন্ত্রক। স্পষ্ট জানানো হয়, দুই দেশের ডিজিএমও স্তরে আলোচনার পরেই সংঘর্ষ বিরতি হয়েছে।
