চাপের মুখে মহম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশের বুকে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে প্রায় এক বছর হতে চলল। এখনও নির্বাচন হয়নি। আর তা নিয়ে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে জনমানসে। এমনকী বিএনপি সহ একাধিক রাজনৈতিক দলও নির্বাচনের দাবি তুলতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে পথে নেমে চলছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, যা নিয়ে নতুন করে বাংলাদেশে অশান্তির একটা আবহ তৈরি হয়েছে। আর এর মধ্যেই অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন খালেদা-পুত্র। একদিকে নির্বাচন নিয়ে দিলেন স্পষ্ট বার্তা। অন্যদিকে ইউনূসের বিদেশ নীতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গত কয়েকদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে মহম্মদ ইউনূস ইস্তফা দিতে পারেন বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়। এর মধ্যেই রাজধানী ঢাকার বুকে শক্তি প্রদর্শনে নামে বিএনপি। একাধিক শাখা সংগঠনকে নিয়ে বিশাল সমাবেশ করে খালেদা জিয়ার দল। আর সেই সভা থেকে ইউনূসকে তীব্র আক্রমণ শানান তারেক। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বিদেশনীতি কোন পথে এগোবে, তাও স্পষ্ট করেন তিনি।
তারেক বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনও দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ অর্থাৎ রাওলপিন্ডি (পাকিস্তান) কিংবা ভারতের সঙ্গে নয়, দেশ এবং দেশের মানুষই আগামিদিনে গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা স্পষ্ট করেছেন খালেদা পুত্র। আর এহেন মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বলে রাখা প্রয়োজন, একটা সময় বাংলাদেশের ক্ষমতায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির সরকার থাকাকালীন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না।
তবে মুজিব-কন্যা হাসিনা বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসার পরেই দুদেশের সম্পর্কে অনেকটাই গতি আসে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত অনেকটাই বদলে গিয়েছে! প্রধান উপদেষ্টার আমলে পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হচ্ছে বাংলাদেশের। আচমকা বাংলাদেশে পাক আধিকারিক থেকে সেনাকর্তাদের আনাগোনাও বাড়ছে। এমনকী চিনের সঙ্গেও সম্পর্ককে মজুবুত করার বার্তা দিচ্ছেন নোবেলজয়ী। আর এই নীতিই না পসন্দ তারেকের। তাঁর কথায়, ‘দিল্লি বা রাওয়ালপিন্ডি নিয়ে না ভেবে, শুধুমাত্র বাংলাদেশকে নিয়ে ভাবতে হবে’।
পাশাপাশি ইউনূস সীমা লঙ্ঘন করছেন বলেও অভিযোগ বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের। তাঁর কথায়, একতরফাভাবে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা অন্তবর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব। আর তা নিয়েই আপস করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তারেক রহমানের।
