ভারতের পাল্টা মারের পর দু’দিন চুপচাপ ছিল। ঘা এখনও না শুকোলেও এখনই আবার সক্রিয় হতে শুরু করেছে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলো। গত চার দিন ধরে জন সমর্থন যাচাই ও অর্থ সংগ্রহ বাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। শুধু তাই নয়, দলে নতুন সদস্য নিয়োগেও তৎপর হয়েছে জঙ্গি সংগঠনগুলো।
জইশ-ই-মহম্মদের সক্রিয়তা
মূলত ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে জাতিসংঘ স্বীকৃত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং ব্লগস্পট ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিচ্ছে তারা। মর্কাজ সাইয়্যেদনা তামিম দারী নামে একটি ফেসবুক পেজে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ভারত বিরোধী বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। ভারতের বিরুদ্ধে জিহাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে সেখানে।
জইশের পোস্টে ভারতের আক্রমণে নিহত জঙ্গিদের ‘শহীদ’ হিসেবে তুলে ধরে প্রশংসা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় হামলার পর পাকিস্তানে মাদ্রাসা ও মসজিদ বন্ধ করায় সরকারের কড়া সমালোচনা করছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের লিংক দিয়ে তরুণদের সংযুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে জইশের পক্ষ থেকে। সম্প্রতি ৩০টিরও বেশি ফেসবুক পেজ, টেলিগ্রাম চ্যানেল ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। সেখানে জইশ তরুণদের মাসুদ আজহারের প্রতি আনুগত্য জানানোর পাশাপাশি, দলে যোগ দেওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর শেয়ার করা হচ্ছে দিচ্ছে। আগামী ২৫ আগস্ট বাহাওয়ালপুরে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে জইশ। সেখানে ভারতীয় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ ‘মারকাজ সুবহান আল্লাহ’ এর সংস্কারের জন্য অর্থ সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রকাশ্য প্রচারে লস্কর-ই-তৈবা
নিজেদের রাজনৈতিক শাখা ‘পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লীগ”-র মাধ্যমে সরাসরি রাস্তায় নামছে হাফিজ সাঈদের প্রতিষ্ঠিত লস্কর-ই-তৈবা। গত ২৮ মে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বিশাল জনসভা করে এই দল। জনসভায় চলে ভারতের বিরুদ্ধে আগ্রাসী স্লোগান। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও হাফিজ সাঈদের পোস্টারে দেখা গিয়েছে। “কাশ্মীর, জম্মু ও পাঞ্জাব,সব পাকিস্তানের অংশ হবে”, এই ধরণের উসকানিমূলক বক্তব্য রাখছে জঙ্গি নেতারা।
ভারতের “অপারেশন সিঁদুর”এর পর পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগ জনক। ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের জিহাদে আকর্ষণের চেষ্টা করছে জইশ-ই-মহম্মদ। অন্যদিকে লস্কর-ই-তৈবা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জনসভা করে জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে শুধু ভারত নয়, গোটা উপমহাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নতুন করে আশঙ্কার মেঘ জমছে।
