হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে এক বছর হতে চলল। এখনও অশান্ত বাংলাদেশ। আইনশৃঙ্খলা সহ একাধিক ইস্যুতে উত্তাল সে দেশ। প্রশ্নের মুখে ইউনূসের নেতৃত্বধীন অন্তবর্তী সরকার। আর এই পরিস্থিতির জন্য ভারতের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলেন প্রধান উপদেষ্টা। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জন্য ভারতকেই দায়ী করেন। এবার এর কড়া জবাব দিল ভারত। বাস্তব পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতেই এহেন বক্তব্য বলেও বার্তা বিদেশমন্ত্রকের।
ইউনূসের এহেন অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতেই এহেন অভিযোগ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা সহ সমস্ত বিষয় সামলানো যে সে সরকারেরই দায়িত্ব তাও এদিন স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, এরপরেও কেউ অশান্তির জন্য তৃতীয় ব্যক্তিকে দায়ী করে তাহলে বুঝতে হবে বাস্তবিক সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং অন্যদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য রণধীর জয়সওয়ালের।
নির্বাচনের দাবিতে সুর চড়াচ্ছে বিএনপি সহ বাংলাদেশের একাধিক রাজনৈতিক। চাপ বাড়ছে নোবেলজয়ী ইউনূসের। এই অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়। আর সেই জল্পনার মধ্যেই জামাত সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মহম্মদ ইউনূস। আর সেই বৈঠকে বাংলাদেশ জুড়ে চলা অস্থিরতার জন্য ভারতকে দায়ী করেন। এমনকী হাসিনার পতন মেনে নিতে না পেরে নাকি এহেন ষড়যন্ত্র বলেও মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।
আর এহেন মন্তব্যের কড়া ভাষায় জবাব দিল ভারত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়েও বার্তা দেন। রনধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। যত দ্রুত সম্ভব সে দেশে নির্বাচন হওয়া উচিৎ এবং তা যাতে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয় তাও নিশ্চিত করতে হবে। আর এর মাধ্যমেই জনগণের ইচ্ছাকে প্রতিষ্ঠিত করা উচিৎ বলেও মন্তব্য করেন। বলে রাখা প্রয়োজন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন করতে হবে, ইতিমধ্যে অন্তবর্তী সরকারকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। এই বিষয়ে সরব হয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও।
