মামলা চেপে দেওয়ার পরিবর্তে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকে গ্রেফতার করতে চলেছে আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্টে’ এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ইডি অফিসার একজন ডেপুটি ডিরেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। তদন্তে প্রকাশ, ফেসটাইমে ফোন করে ৫ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে দরাদরি চলে ইডি অফিসার এবং অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর। শেষ পর্যন্ত ২ কোটি টাকা চূড়ান্ত হয়। সেই ঘুষের প্রথম কিস্তি ৫০ লক্ষ টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ইডি অফিসারকে ধরে ফেলে সিবিআই।
অভিযুক্ত ইডি অফিসারের নাম চিন্তন রঘুবংশী। জানা গেছে, ওড়িশার এক ব্যবসায়ীকে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। তার পর তাঁকে এক তৃতীয় ব্যক্তি মারফত প্রস্তাব পাঠানো হয় যে, ৫ কোটি টাকা দিলে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে না। ইডির মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাজেয়াপ্ত করা হবে না তাঁর বেসরকারি হাসপাতালটিও। পাথরের খাদান ব্যবসায়ী ওই তৃতীয় ব্যক্তিকে জানান, তিনি ৫ কোটি টাকা দিতে অপারগ। তখন তৃতীয় ব্যক্তি ফেসটাইমে ফোন করেন চিন্তনকে। লাউডস্পিকারে চলে দরাদরি। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় ২ কোটি টাকা দেবেন ব্যবসায়ী। প্রথম কিস্তি ৫০ লক্ষ টাকা হাতে নেওয়ার সময় চিন্তনকে ধরে ফেলে সিবিআই। ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, এ ব্যাপারে এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি কর্মীকে গ্রেফতার করার আগে যে পদ্ধতি মানতে হয় তা মানার কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ হলে চিন্তনকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার দেখানো হবে।
ঘটনা সামনে আসতেই ইডি-র অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই চিন্তনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। দিল্লি ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে ইডি-র তদন্তে স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন ওঠে, এই ঘটনায় তা আরও তীব্র হয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, খুব দ্রুত চিন্তনকে আদালতে তোলা হবে।
