সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
এ যেন উলট পুরাণ। চার ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বীরভূমের “কেষ্ট” তথা অনুব্রত মণ্ডলকে। বোলপুরের আইসি লিটন হালদারকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। বিষয়টি তর দল তৃণমূল কংগ্রেস একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অনুব্রত মণ্ডলকে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চার ঘন্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। যে ধরনের ভাষায় আক্রমণ করেছেন অনুব্রত মণ্ডল তা কোনভাবেই সমর্থন করছে না তৃণমূল কংগ্রেস। ক্ষমা না চাইলে শোকজ করা হবে অনুব্রত মণ্ডলকে।
বোলপুরের সিঙ্গি গ্রামে কয়েকদিন আগেই অনুব্রতর অনুগামীদের সঙ্গে কাজল শেখের অনুগামীদের ব্যাপক গন্ডগোল হয়। সেখানে কাজল শেখের লোকজন অনুব্রতর লোকজনকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার জেলে বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। কেষ্ট ঘনিষ্ঠদের হাত পা ভেঙে যায়। অথচ সেই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা সত্ত্বেও কেন গ্রেফতার করা হয়নি সেই প্রশ্ন নিয়েই বোলপুর থানায় দরবার করেন স্বয়ং কেষ্ট মন্ডল। কয়েকশো লোক নিয়ে বোলপুর থানায় ডেপুটেশন দেন অনুব্রত। আর সেই ডেপুটেশন দিতে গিয়েই বোলপুর থানার আইসির সঙ্গে তীব্র বাঁধানো বাদে জড়িয়ে পড়েন কেষ্ট। নিজের প্রভাব দেখাতে গিয়ে বোলপুর থানার আইসিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অনুব্রত। এই ঘটনা জেলা স্তরে তো বটেই পরে তৃণমূলের রাজ্যস্তরে পৌঁছে যায়। তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব এই ঘটনা ভালোভাবে মেনে নেয়নি। কদিন আগেই দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখ হাত ধরাধরি করে কাজ করবে। পাশাপাশি নির্দিষ্টভাবে অনুব্রত মণ্ডল কে সকলের সঙ্গে সহযোগিতা ও সম্ভাব বজায় রেখে কাজ করার আবেদন জানিয়েছিলেন দলনেত্রী মমতা। দলনেত্রীর নির্দেশকে মান্যতা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অনুব্রত ও কাজল দুজনেই। এমনকি কাজল শেখ জানিয়েছিলেন যে বীরভূমের দলের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কিন্তু ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে’ এই আত্মবাক্যকেই ফের প্রমাণ করল বীরভূম। অনুব্রত বনাম কাজল এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এর প্রকাশ্যে এবং তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বকে। যেহেতু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী নিজেই পুলিশ মন্ত্রী তাই বোলপুর থানার আইসিকে যে কদর্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন অনুব্রত তা ভালোভাবে মেনে নেয়নি দল। অবশেষে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বে পক্ষ থেকে অনুব্রতকে সতর্ক করে চার ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনার জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাকে শোকজ করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস।
