সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এক মামলার শুনানিকে ঘিরে তোলপাড়! শুধু বিচারক মহল নয়, গোটা সোশ্যাল মিডিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছে তা। বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল এবং দেবনারায়ণ মিশ্রের বেঞ্চে শুনানি চলছিল এক হত্যা মামলার। এই মামলায় এক রসায়নের অধ্যাপিকা মমতা পাঠকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নিজের চিকিৎসক স্বামীকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে হত্যা করেছেন তিনি।
আদালতে বিচারপতি যখন অভিযুক্ত অধ্যাপককে প্রশ্ন করেন, “আপনার বিরুদ্ধে স্বামীকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। কী বলবেন?” তখন তাঁর উত্তর শুনে সবাই হতবাক। অভিযুক্ত অধ্যাপিকা বলেন, “স্যার, পোস্টমর্টেম রুমে থার্মাল বার্ন আর ইলেকট্রিক বার্ন আলাদা করে চেনা যায় না। যখন শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন ধাতব কণাগুলো টিস্যুতে আটকে যায়। সে গুলোকে পরে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড কিংবা নাইট্রিক অ্যাসিডে গলিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় মৃত্যুর আসল কারণ।” রসায়নের অধ্যাপিকার যুক্তি শুনে কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান বিচারপতিও। সেই ভিডিয়ো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কেউ বলছেন, “এটা আদালতের ইতিহাসে অন্যতম অদ্ভুত যুক্তি”। আবার কেউ বলছেন, “যখন কেমিস্ট্রি আদালতে পৌঁছে যায়, তখন বিচারের পথও জটিল হয়ে ওঠে।”
আসলে, ঘটনাটি ২০২১ সালের গোয়ালিয়রের। সে সময় অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক নীরজ পাঠকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রথমে স্ত্রী মমতা দাবি করেন, তিনি ছেলেকে নিয়ে বাইরে ছিলেন। পরে ফিরে এসে স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, স্বামীকে হত্যা করেছেন পেশায় কেমিস্ট্রির অধ্যাপিকা মমতা। প্রথমে স্বামীকে ঘুমের ওষুধ দেন, তার পর ইলেকট্রিক শক দিয়ে করে হত্যা করেন। তার পরেই সামনে এসে একটি অডিও ক্লিপ। সেখানে জীবিত থাকাকালীন নীরজ পাঠক বলছেন, স্ত্রী তাঁর উপর মানসিক অত্যাচার করতেন। এ ছাড়াও, মমতার বিরুদ্ধে অতীতের এক অভিযোগও সামনে আসে। সকল তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ২০২২ সালে সেশনস কোর্ট অভিযুক্ত অধ্যাপিকাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয়। তবে পরে তিনি হাই কোর্টে আপিল করেন এবং কয়েক মাস আগে জামিন পান।
গত ২৯ এপ্রিল হাই কোর্টে শুনানির সময় অভিযুক্ত অধ্যাপিকা আদালতে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র রিপোর্ট পড়ে বলা যায় না মৃত্যু ইলেকট্রিক শক থেকে হয়েছে। এর জন্য আরও গভীর রাসায়নিক বিশ্লেষণ দরকার। তাঁর ব্যতিক্রমী যুক্তির শুনে মামলার রায় রিজার্ভ রাখেন এবং মমতাকে জামিনে মুক্ত করার নির্দেশ দেন। এ বার হাই কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা।
