ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার গত ত্রৈমাসিকের তুলনায় বাড়লেও গত অর্থবর্ষের তুলনায় কমই রইল। ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষের জানুয়ারি থেকে মার্চ ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৪ শতাংশ। শুক্রবার এমনই তথ্য প্রকাশ করল জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় তথা এনএসও। তার আগের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে জিডিপি ছিল ৬.২ শতাংশ। যদিও গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষে জানুয়ারি থেকে মার্চ ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির ছিল ৮.৪ শতাংশ।
গত অর্থবর্ষে বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির হার কমে ৬.৫ শতাংশে নামল। যা কিনা ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষে ছিল ৯.২ শতাংশ। অর্থাৎ আড়াই শতাংশের বেশি কমেছে জিডিপি বৃদ্ধির হার। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে খোদ এনএসও-র পূর্বাভাসই সত্যি হল। ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে কৃষিক্ষেত্রে যেমন বৃদ্ধি হয়েছে, তেমনই নির্মাণ ক্ষেত্র, সেবা ক্ষেত্রেও আর্থিক বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।
NSO-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কৃষিক্ষেত্রে ৪.৬ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে যা ছিল ২.৭ শতাংশ। সেবার বর্ষার খামখেয়ালিপনার কারণে প্রচুর ফসল নষ্টও হয়েছিল। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে কৃষিক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার একলাফে ৫ শতাংশে পৌঁছয়। যা কিনা ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে মাত্র ০.৮ শতাংশ ছিল।
২০২৪-‘২৫ অর্থবর্ষে নির্মাণ ক্ষেত্রে ৯.৪ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। শেষ ত্রৈমাসিকেই যা শুধু ১০.৮ শতাংশে পৌঁছেছিল। এছাড়া পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য সেবাক্ষেত্রে সার্বিক বৃদ্ধির হার ৮.৯ শতাংশ শেষ ত্রৈমাসিকে ওই সেক্টরে আর্থিক বৃদ্ধি হয়েছে ৮.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, গোটা অর্থবর্ষে ফিনান্সিয়াল ও রিয়েল এস্টেট ও প্রফেশনাল সার্ভিস সেক্টরে আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.২ শতাংশ। ২০২৪-‘২৫ অর্থবর্ষের শেষ অর্থাৎ চতুর্থ ত্রৈসামিকে ওই সেক্টরে বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ।
ওয়াকিবহার মহলের মতে, কৃষিক্ষেত্র ছাড়া হাইওয়ে, রেলওয়ে, বন্দর পরিকাঠামোর উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার যে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে, তারই ফলশ্রুতি হিসেবে বৃদ্ধি সম্ভবপর হয়েছে। বিশ্বব্যাপী নানা অচলাবস্থা ও আমেরিকার শুল্কযুদ্ধের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার তথা আইএমএফের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেও ৬ শতাংশের কাছে গিয়ে ঠেকতে পারে ভারতের জিডিপি।
