সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
উত্তরবঙ্গের আদিপুরদুয়ার নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য প্রচার করেছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডলে এবার মোদির মিথ্যাচার নিয়ে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আলিপুরদুয়ার জেলার উন্নয়নে রাজ্য সরকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে তথ্য পেশ করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক প্ররোচনামূলক। এক্স হ্যান্ডেলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছছেন, “এটা নিম্ন মানসিকতার পরিচয়।” পাশাপাশি আলিপুরদুয়ারের মানুষদেরও অপমান করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে শুধুমাত্র পাল্টা অভিযোগের সুর দিয়েই এক্স হ্যান্ডেল বার্তা শেষ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। আলিপুরদুয়ারের জন্য রাজ্য সরকার কোন কোন উন্নয়ন করেছে তার তথ্য পেশ করেছেন। ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের ২০ তম জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে আলিপুরদুয়ার। তারপর থেকে আলিপুরদুয়ারের পরিকাঠাম ো থেকে সামাজিক সুরক্ষা অথবা চা বাগান ও বাগিচা কর্মীদের উন্নয়ন রাজ্য সরকার কিভাবে করেছে তা বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিকাঠামো
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন
“প্রশাসনিক পরিকাঠামোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং জনসাধারণের জন্য নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা গুলো রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ফালাকাটায় একটি মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, একটি আয়ুস হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে।” শিক্ষাক্ষেত্রে আদিপুরদুয়ারে বিশ্ববিদ্যালয় সহ সাতটি নতুন সরকারি কলেজ, ১৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫২ টি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া জনসাধারণের সুবিধার জন্য আটটি বিদ্যুতের সাবস্টেশন, একটি নতুন স্টেডিয়াম, মহিলা থানা তৈরি করা হয়েছে বলে এক্স হ্যান্ডেল এ জানান মমতা।
সামাজিক সুরক্ষা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্তরবঙ্গের তথ্য যে অসত্য সেই অভিযোগের পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুরদুয়ারের জন্য সামাজিক প্রকল্পগুলি কিভাবে মানুষের সুবিধায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে তার তথ্য দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই জেলায় ৩.৫৭ লক্ষ্য লক্ষ্মীর ভান্ডার এর সুবিধা পেয়েছেন মহিলারা। ৫.৭২ লক্ষ্য কন্যাশ্রী , ১২.৯১ লক্ষ্য খাদ্য সাথী, ২.৫৪ লক্ষ্য সবুজ সাথীর সুবিধা পেয়েছেন এই জেলার মানুষরা। এছাড়া জয় জোহার প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন ১৫,৩৯৬ জন মানুষ। চার লক্ষের বেশি মানুষ আলিপুরদুয়ার জেলায় স্বাস্থ্যখাতে সুবিধা পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চা বাগান ও কর্মী উন্নয়ন
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই চা বাগান সম্পর্কে কেন্দ্রের উদাসীনতার কথা উত্তরবঙ্গের শিল্পপতিরা তুলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলের মাধ্যমে জানিয়েছেন, আলিপুরদুয়ার জেলার ৮ টি বন্ধ চা বাগান খুলেছে রাজ্য সরকার। চা বাগানে শ্রমিকদের মজুরি আড়াইশো টাকা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কোথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া বিনামূল্যের রেশন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি চা সুন্দরী প্রকল্পের মাধ্যমে ২৯৬৯ টি পরিবারের বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে ভুলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী তার এক্স হ্যান্ডলের মাধ্যমে জানিয়েছেন, আলিপুরদুয়ারে দুটি শিল্প তালুক তৈরি করা হয়েছে এবং ১৪ হাজার এর বেশি এমএসসি ইউনিট হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য হোমস্টে তৈরি করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছে রাজ্য সরকার। যাতে স্থানীয় মানুষের কাজ হয়। সেখানে রেজিস্টার্ড হোম স্টে-র সংখ্যা ৭৪। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অধীনে ৪৫৫১১ টি পরিবারের বাড়ি তৈরি করার জন্য ৫৪৬.১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি ৪,২৬৬ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে। ৪৫টি নতুন ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজবংশী ও কামতাপুরীকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০০ টি রাজবংশী স্কুলকে সরকারি অনুমোদনের আওতায় আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে রাজনৈতিক প্ররোচনামূলক বক্তব্য পেশ করেছেন তা মোটেই সুখকর নয়। উল্লেখযোগ্য, গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবান্ন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র আক্রমণ করে জানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি “মিথ্যাচারী ব্যবসাদার”। শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে সেই দাবির স্বপক্ষে আলিপুরদুয়ার নিয়ে মোদির ভাষণের মিথ্যা তথ্যের পাল্টা সত্যাসত্য প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
