ইতিহাসই বদলে দিলেন রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী। হলদিঘাঁটির যুদ্ধে রাজপুত রাজা মহা রাণা প্রতাপের কাছে হেরে গিয়েছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর। জয়পুরে রাণা প্রতাপের ৪৮৫ তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এমনই দাবি করে বসলেন রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারী। স্রেফ তাই নয়, এই মর্মে হলদিঘাঁটির শিলালিপিও তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে পরিবর্তন করে দিয়েছেন বলে সগৌরবে জানালেন উপমুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গটা তুলে দিয়েছিলেন খোদ রাজ্যপালই। শুক্রবারই উদয়পুরে এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল হরিভাউ বাগাড়ে বলেন ব্রিটিশ শাসনের প্রভাবে ভারতীয় ইতিহাসে একাধিক ভ্রান্ত ধারণা ঢোকানো হয়েছে। তাঁর কথায়, মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে যোধাবাঈয়ের বিয়েই হয়নি। সেটি আসলে রূপকথা। রাজ্যপাল বলেন, “আকবর আসলে বিয়ে করেছিলেন অম্বরের রাজা ভরমলের কন্যাকে, তবে তাঁর নাম যোধাবাঈ ছিল না। পরে ভুলভাবে তাঁর নাম যোধাবাঈ হিসাবে প্রচারিত হয়।”
রাজ্যপালের পর এবার উপমুখ্যমন্ত্রী। রাখঢাক না করেই তিনি বলেন, “হলদিঘাঁটির শিলালিপিতে লেখা ছিল আকবরের কাছে মহা রাণা প্রতাপ পরাজিত হয়েছিলেন। ওই শিলালিপি আবার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানও বটে। ২০২১ সালে সেখান থেকে আমি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলাম। আর তাই আমরা শিলালিপি বদলের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের প্রচেষ্টায় শিলালিপিতে লেখা বদল হয়েছিল। আজ যদি হলদিঘাঁটিতে যান, তাহলে দেখবেন জ্বলজ্বল করে লেখা রয়েছে, মহা রাণা প্রতাপ যুদ্ধ জমিতেছিলেন।” সাংসদ হিসেবে শিলালিপি বদল তাঁর কর্মজীবনের বড় সাফল্য বলেও উল্লেখ করেন উপমুখ্যমন্ত্রী।
এখানেই থেমে থাকেননি দিয়া কুমারী। তাঁর আরও দাবি, “অনেকে প্রায়শই না জেনে ভুলভাল মন্তব্য করে থাকেন। তাই এখন সত্যিটা বলার সময় এসেছে। আমি সচরাচর কম কথা বলি। কিন্তু যখন বলি, তখন সঠিক কথা বলি। রাজস্থানের ইতিহাসের সঠিকটা আমাদের সকলের জানা উচিত। মুঘলদের লেখা ইতিহাস নয়। মুঘলরা কী করেছে? শুধু বিভাজন আর শাসন। ব্রিটিশরাও তাই করে এসেছে।” বিজেপি সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক যে দীর্ঘদিন ধরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও একই ভুল ইতিহাসে সায় দিয়ে এসেছে।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে হলদিঘাঁটির ওই শিলালিপি বদল করে আর্কিওলজিক্য়াল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। জন প্রতিনিধি তো বটেই, বিশিষ্টজনদের থেকে ওই শিলালিপি বদলে ফেলার সুপারিশ জানানো হয়েছিল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে। এমনকী কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফেও উপরমহলে আর্জি জানানো হয়েছিল। পুরোনো শিলালিপিতে ASI-র নামও খোদাই ছিল না। অবশেষে তা পাল্টে ফেলা হয়।
