প্রশ্নচিহ্নের মুখে মধ্যপ্রদেশের সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থা। ২০২৩ সালের মধ্যপ্রদেশ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় বিরাট জালিয়াতি। বলিউডের ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’-এর মতো কাহিনি এ বার বাস্তবে! পরীক্ষার্থী নয়, তার পরিবর্তে পরীক্ষায় বসলেন ‘সলভার’ বা ভাড়াটে প্রার্থী। চাকরিও পেলেন দিব্য। জয়েন করতে গিয়ে ধরা পড়ল জোচ্চুরি! আর এই পুরো জালিয়াতি ফাঁস হয়েছে একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে। শুধু এক জেলা নয়, রাজ্য জুড়েই এই জালিয়াতি শিকড় ছড়িয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে হাজারো প্রশ্ন।
২০২৩ সালের ১২ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় ৭ লক্ষ প্রার্থী। ফাঁকা ছিল ৭,০৯০টি পদ। লিখিত পরীক্ষার ফলপ্রকাশ হয় মার্চ ২০২৪-এ। তার পর ফিজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। কিন্তু ঠিক যোগদানের মুহূর্তে ধরা পড়তে থাকে পরিচয়ে গরমিল।
জানা গিয়েছে, মোরেনা জেলার রামরূপ গুর্জর আলিরাজপুরের পুলিশ সুপারের অফিসে চাকরিতে যোগ দিতে যান। সেই সময় তাঁর আধার কার্ডের ছবি ও অ্যাডমিট কার্ডের ছবি না মেলায় সন্দেহ হয় কর্তৃপক্ষের। ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষায় দেখা যায়, পরীক্ষায় বসেছিল অন্য কেউ! রামরূপ গুর্জর স্বীকার করেন, বিহারের এক যুবক অমরেন্দ্র সিংকে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিজের জায়গায় পরীক্ষা দিতে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে।
মোরেনা, শেওপুর-সহ আরও কয়েকটি জেলায় একই পদ্ধতিতে প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। মোরেনার রাধাচরণ ও দিনেশ সিং আধার কার্ডের বায়োমেট্রিক ডেটা বদলে ভাড়াটে পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। শেওপুর জেলায় ঘটেছে একই কাণ্ড। সাত জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তালিকায় রয়েছেন তিন জন চাকরি পাকা হয়ে যাওয়া প্রার্থী এবং তাদের হয়ে পরীক্ষায় বসা ‘সলভার’-রা। গ্রেফতার হয়েছেন মোটা টাকার বিনিময়ে বায়োমেট্রিক পরিবর্তনের সাহায্য করা আধার এজেন্টরাও।
কিন্তু কি ভাবে চলত জালিয়াতি? জানা গিয়েছে, প্রথম টাকা দিয়ে চাকরি কিনতে চাওয়া প্রার্থীদের খুঁজে বের করা হত। তার পর আধার কার্ডের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেসিয়াল ডেটা বদলে দেওয়া হত ‘সলভার’-এর নাম অনুযায়ী। সলভারই দিত লিখিত ও ফিজিক্যাল টেস্ট। পুরো প্রক্রিয়া শেষে আবার আসল প্রার্থীর বায়োমেট্রিক ফিরিয়ে আনা হতো, যাতে যোগদানের সময় ধরা না পড়ে।
তবে শেষরক্ষা হলো না। চাকরিতে জয়েন করার সময় বায়োমেট্রিক যাচাইয়ে ধরা পড়ে প্রতারণা। এর পর থেকেই রাজ্য জুড়ে তৎপর হয়েছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত তিন জেলা থেকে ১২ জনেরও বেশি ‘প্রতারক’ ধরা পড়েছে। এই প্রতারণা চক্র মনে করিয়ে দিচ্ছে মধ্যপ্রদেশের কুখ্যাত ‘ব্যাপম’ কেলেঙ্কারির কথা। ঠিক একই ভাবে ভুয়ো পরীক্ষার্থী দিয়ে মেডিক্যাল ও চাকরির পরীক্ষায় পাশ করানোর অভিযোগ ছিল। বহু মৃত্যু ও আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে এসেছিল ব্যাপম মামলায়। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে সরকারি চাকরিতে এমন দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে।
