মত প্রকাশের নামে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত কখনোই কাম্য নয়! ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার শর্মিষ্ঠা পানোলির বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। “আমাদের দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, তবে তা অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার লাইসেন্স নয়”, বললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পার্থসারথি চট্টাপাধ্যায়। মুসলিম ধর্ম সম্প্রদায় সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন পুণেতে আইনের ছাত্রী তথা ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার শর্মিষ্ঠা পানোলি। তাঁর জামিন চেয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। সেই মামলায় এবার তাঁর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার কড়া ভাষা প্রয়োগ করল কলকাতা হাই কোর্ট। এ দিন আদালত জানায়, “আমাদের দেশ বৈচিত্র্যে ভরা। কোনও একটি সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত লাগা মোটেই কাম্য নয়।”
শর্মিষ্ঠা পানোলি আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেন। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর একত্রিত করে দেওয়া হয়। বিচারপতি জানান, মামলাটি আগামী ৫ জুন ছুটির বেঞ্চে শুনানির জন্য তোলা হবে। এ ছাড়া, আদালত সংশ্লিষ্ট জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়, যেন শর্মিষ্ঠা পানোলিকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সুবিধা যেমন ওষুধ, পোশাক পরিবর্তনের সুযোগ ইত্যাদি প্রদান করা হয়।
শর্মিষ্ঠার পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী ডি.পি. সিং। তিনি আদালতে জানান, “আমি হতবাক। এমনকি একজন সন্ত্রাসবাদীকেও তো ন্যূনতম মানবিক অধিকার দেওয়া হয়। অথচ এখানে একজন শিক্ষার্থীকে এসব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ওর অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার রয়েছে। জেলে থাকার সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে সমস্যায় পড়ছেন তিনি।”
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা অন্য বন্দিদের দেওয়া হয়, ঠিক সেই একইরকম সুবিধা শর্মিষ্ঠা পানোলিকেও দেওয়া হবে। তার বেশি কিছু নয়।”
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ইনস্টাগ্রামে শর্মিষ্ঠা একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। ভিডিয়োটি ছিল ভারতের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে এক পাক নাগরিকের প্রশ্নের উত্তরে। সেই ভিডিওতে তিনি ইসলাম ধর্ম এবং হজরত মহম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া তিনি বলিউড অভিনেতাদের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়ায়। পরবর্তীতে শর্মিষ্ঠা ১৫ মে ভিডিওটি ডিলিট করে এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি জানান, নিজের মন্তব্যের জন্য ধর্ষণ ও খুনের হুমকি পাচ্ছেন। অবশেষে ৩০ মে রাতে হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও একাধিকবার তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তাঁরা ধরা দেননি। বর্তমানে তিনি ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
