সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ওয়াকফ আইন সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা এখনও বিচারাধীন। তার মধ্যেই নয়া ওয়াকফ আইন মেনে ওয়াকফ সম্পত্তিতে নজরদারি করতে নির্দিষ্ট পোর্টাল চালুর উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী শুক্রবার ঈদের দিনে এই পোর্টালের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
‘ ইউনিফাইড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট এমপাওয়ারমেন্ট এফিসিয়েন্সি এন্ড ডেভেলপমেন্ট ‘ সংক্ষেপে UWMEED নামের এই কেন্দ্রীয় পোর্টালে ৬ মাসের মধ্যে ওয়াকফ সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সহ সম্পত্তির পরিমাণ ও স্থান এবং অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে। পোর্টালের নথিভূক্ত বা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ওয়াকফ বোর্ড। সংশ্লিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত করানো না হলে সেই সম্পত্তি বিতর্কিত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত এবং বিচার্য হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে। যেকোনো ওয়াকফ সম্পত্তি মহিলা এবং দরিদ্রদের নামেই থাকতে হবে। মহিলাদের নামে সম্পত্তি থাকলেই তা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে না। তার জন্য প্রয়োজনীয় নথি বা তথ্য প্রমাণ থাকতে হবে এবং এই কেন্দ্রীয় পোর্টালে সমস্ত তথ্য ও তথ্য প্রমাণ নথিভুক্ত করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে ওয়াক অফ আইন ১৯৯৫ সংশোধন করা হয়েছে সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণের জন্য। অর্থাৎ, ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ইসলামি আইনের অধীনে নিবেদিত সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করাই এই সংশোধনী বা সংশোধিত আইনের মূল লক্ষ্য বলে দাবি কেন্দ্রের। যদিও এই নয়া ওয়াকত আইনের বিরোধী পিটিশনারদের দাবি, এই নয়া আইন প্রয়োগ করে অনাজ্যভাবে সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। এই সংশোধনীটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং ইসলামী ধর্মীয় বিষয় ও ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ বলেই মনে করছেন কেন্দ্রের বিরোধীপক্ষ। সংসদের উভয় কক্ষে তীব্র বাঁধনুবাদের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভিত্তিতে এই ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস করে কেন্দ্রের শাসক দল এবং গত ৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুরমু এই বিলে সই করে এই সংশোধনী বিলকে আইনে পরিণত করেছেন। যদিও এই নতুন আইনের কার্যকারিতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন। আদালতে ও একই যুক্তিতে সওয়াল-জবাব চলছে। তারি মাঝে ওয়াকআপ সম্পত্তির তথ্যপঞ্জি এর নথিভূক্ত করনে নির্দিষ্ট পোর্টালের সূচনা করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
