সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
“শাসক দলে না থাকলে মানুষের জন্য কাজ করা যায় না।” দশ বছরের বিধায়ক জীবনে এমনটাই উপলব্ধি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের কংগ্রেস রাজনীতিবিদ তথা প্রাক্তন এআইসিসি সদস্য এবং মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর মালাকারের। আর এই উপলব্ধি নিয়েই বুধবার রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন বর্ষিয়ান কংগ্রেস রাজনীতিবিদ শংকর মালাকার। উত্তরবঙ্গে কংগ্রেসের রাজনীতিতে প্রণব-প্রিয়-সুব্রত ঘনিষ্ঠ শংকর মালাকার এক সময় যথেষ্ট দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বুধবার রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি ও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দিলেন শঙ্কর। যোগদানের মুহূর্তে তাঁর বক্তব্য, ” আমি দশ বছর উত্তরবঙ্গের বিধায়ক ছিলাম। দশ বছর ধরে আমি উপলব্ধি করেছি যে শাসক দলে না থাকলে মানুষের জন্য কাজ করা যায় না। সে কারণেই রাজ্যের বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করলাম।” শংকর মালাকারের এই বক্তব্য যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজ্যের বিরোধী বিধায়কদের কাজ করতে দেওয়া হয় না বলে রাজ্যের বিধানসভা থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা সমাবেশ থেকে বিরোধী পক্ষের বিধায়করা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় তৃণমূল সরকারের আমলে বাম ও কংগ্রেস বিধায়করা যেমন একই দাবি করেছিলেন তৃতীয়বার তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির বিধায়কদের পক্ষ থেকেও একই কথা বারবার উচ্চারিত হয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকার এমনকি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে আপত্তির কথা জানিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার তৃণমূলে যোগদান করতে গিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রীর মাঝে বসে সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন শঙ্কর মালাকার। শাসক দলের যোগ দিয়ে ‘শাসকের লোক’ হলেও শঙ্করের এই বক্তব্যে যে রাজনৈতিক অস্বস্তি বাড়াবে শাসক দলের তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যেই প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শংকর মালাকারের এই বক্তব্যকে ঢাল করে রাজ্যে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরী জানিয়েছেন ” দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলের বিধায়করা, যে দাবি করছিলেন আজ তৃণমূলে যোগদানের পর সেই দাবিকেই প্রতিষ্ঠা দিলেন বর্তমানে তৃণমূল নেতা শঙ্কর মালাকার। শাসক দলের বিধায়ক ছাড়া অন্য কোন বিরোধী দলের বিধায়ক বা নেতা মানুষের কাজ করতে পারবে না এটাই এই বাংলায় বিধান।” মন্তব্য প্রদেশ কংগ্রেস নেতার। অবশ্য উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে কংগ্রেস যে দিন দিন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছেন সে কথাও গোপন করেননি শঙ্কর। কোন কোন পকেটে কংগ্রেস শক্তিশালী হলেও উত্তরবঙ্গ জুড়ে কংগ্রেসের ভোট মাত্র দুই তিন শতাংশে এসে পৌঁছেছে। অন্যদিকে দার্জিলিং থেকে আলিপুর দুয়ার পর্যন্ত কোথাও গোড়ালেন কোথাও কামতাপুরীদের রাজ্য বিভাজনের উস্কানি দিয়ে বিজেপি যে বিভাজনের রাজনীতি করছে তার বিরোধিতায় কংগ্রেস কোন আন্দোলন সংগঠিত করতে পারেনি বলেও জানিয়েছেন শঙ্কর মালাকার। তাই উত্তরবঙ্গ কে বাঁচাতে এবং সর্বোপরি “মানুষের কাজ করতে” শাসকদল তৃণমূলই একমাত্র আশ্রয় বলে মনে করেন তিনি। এমনকি কংগ্রেস হাই কমান্ডের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা জানিয়ে বিজেপি বিরোধী সর্বভারতীয় ‘ইন্ডিয়া’ -য় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব অপরিসীম বলেও জানান কগ্রেস ত্যাগী প্রাক্তন বিধায়ক।
