বরাবরের মতোই রাজ্যের ২৬ এর ভোটেও পদ্ম শিবিরের মূল অস্ত্র ধর্ম। ডিসেম্বর মাসে ৫ লক্ষ জমায়েতের টার্গেট নিয়ে গীতা পাঠের আসরে নামছে গেরুয়া শিবির। লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ হয়েছিল কিছুদিন আগেই। সেইবার টার্গেট ছিল ১ লক্ষ! কিন্তু এবার টার্গেট ৫লক্ষ! ব্রিগেড এর ময়দানে হবে এবারের গীতা পাঠ।
জনবিন্যাস পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করেছেন অনেকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, শুধু রাজনৈতিক কারণে বাংলা দখল উদ্দেশ্য নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যে জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেমিক, সনাতনী সংস্কৃতির প্রচারক সরকার তৈরি হওয়া প্রয়োজন। এর জন্য সনাতনী সংগঠনগুলোকে ভূমিকা পালনের আহ্বান করেছেন শাহ। সূত্রের খবর, এর পরেই নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে সংগঠনগুলি। পুজোর পরেই জেলায় জেলায় সন্তযাত্রা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে আগামী ২৩ ও ২৪ জুন বাগবাজার এবং গোলপার্কে দুটি প্রস্তুতি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শেষ ধাপে আগামী ৭ ডিসেম্বর কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে গীতা পাঠের আয়োজন করতে চলেছে সনাতন সংস্কৃতি সাংসদ। কলকাতার ব্রিগেড ময়দানেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের অনুষ্ঠান হয়েছিল। পরের বছর তা হয় শিলিগুড়িতে। সব কিছু ঠিক থাকলে এ বার সেই আসর ফের বসতে চলেছে ব্রিগেডে। আয়োজক সূত্রে খবর, আকারে-বহরে এই কর্মসূচি গত দুটি কর্মসূচির চেয়ে কয়েকগুন বড় হতে চলেছে। অতিথি তালিকাও চমকপ্রদ হতে চলেছে। থাকার কথা বৃন্দাবনের শ্রীকৃষ্ণ কৃপা আশ্রমের অধ্যক্ষ গীতা মনীষী স্বামী শ্রী জ্ঞানানন্দ মহারাজ। এ ছাড়াও থাকতে পারেন বাগেশ্বর ধামের আধ্যাত্মিক প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহিলা শাখা দুর্গা বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাধ্বী ঋতম্ভরা। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সনাতনী আবহ তৈরি করে মেরুকরণকে পোক্ত করতেই যে এই কৌশল তা আড়াল করছে না আয়োজকদের একাংশ। গীতাকে ভরসা করেই আগামী বছরের ভোটযুদ্ধে এগোতে চায় গেরুয়া শিবির।
Leave a comment
Leave a comment
