কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল দেশে। এ বার সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি এক মহিলাকে বেহুঁশ করে ধর্ষণের ঘটনা। ঘটনাস্থল, রাজস্থান। ঘটনাটি ঘটেছে ৪ জুন রাতে।
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, রাজস্থানের আলওয়ারের ইএসআইসি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই মহিলাকে একটি ঘুমের ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এর পর তাঁর বিছানার চারপাশে পর্দা টেনে দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন হাসপাতালেরই এক কর্মী। সেই সময় মহিলার পরিবার আইসিইউ-এর বাইরেই অপেক্ষা করছিলেন।
ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরতেই মহিলা অস্পষ্ট ভাবে স্বামীর নাম ধরে ডাকতে শুরু থাকেন। তখন আইসিইউ-র কর্মীরা তাঁর স্বামীকে ভেতরে ডেকে আনেন। তবে ওষুধের প্রভাবে তিনি তখন স্পষ্ট ভাবে কিছু বলতে পারেননি। সকালে পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে এলে তিনি নিজের উপর হওয়া অত্যাচারের কথা পরিবারকে জানান। এক প্রত্যক্ষদর্শী আইসিইউ-তে ভর্তি অন্য এক রোগীর স্বামী, তিনিও জানিয়েছেন যে রাতে নার্সিং স্টাফ ‘ভুল কাজ’ করেছেন।
অভিযোগকারীর স্বামী প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ, তখন হাসপাতাল প্রশাসন বিষয়টি ধামচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমন কি অভিযুক্ত নার্সিং স্টাফ হাসপাতাল কর্তাদের সামনে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের কাছে ক্ষমাও চান। তবে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি শেষমেশ অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে জানানো হয়। তিনি পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।
এর পর পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করায় এবং তার ভিডিয়ো স্টেটমেন্ট নেয়। সেই ভিডিও বয়ানে স্পষ্ট ভাবে তিনি অভিযুক্ত পুরুষ নার্সকে শনাক্ত করেন। বলেন, “ওই ব্যক্তি আমাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করে দেন। তার পর আমার উপর যৌন নির্যাতন চালান।” পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ইএসআইসি মেডিক্যাল কলেজের ডিন অসীম দাস বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়বে। যে দোষী প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
