গত কয়েকদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেসলা প্রধান এলন মাস্কের দ্বন্দ্ব নিয়ে সরগরম আন্তর্জাতিক মিডিয়া। একজন দিচ্ছিলেন সরকারি চুক্তি বাতিলের হুমকি তো অন্যজন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার বার্তা। এ সবের মধ্যেই মাস্ক তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করেন, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের গোপন ফাইলে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। মাস্কের মতে, এই কারণেই সেই তথাকথিত ‘এপস্টিন ফাইলগুলি কখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
তিনি লেখেন, “সবচেয়ে বড় বোমা ফাটানোর সময় এসেছে: “ডোনাল্ডট্রাম্প এপস্টিন ফাইলসে আছেন। সে কারণেই এই ফাইলগুলো প্রকাশ করা হয়নি। ভালো থাকো, ডি.জে.টি!” এই বক্তব্যের পরপরই তা মুছে ফেলা হয়। আর এই ঘটনা নানা মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সত্যিই কি কিছু গোপন করার চেষ্টা চলছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে?
এই দ্বন্দ্বের সূচনা দিন কয়েক আগে। যখন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি বিলকে ‘জঘন্য ও ঘৃণ্য’ বলে আক্রমণ করেন। ট্রাম্প জবাবে বলেন, তিনি মাস্কের উপর ‘বেশ হতাশ’। অথচ মাস্ক দাবি করেন, তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ৩০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন এবং তাঁর সমর্থন ছাড়া ট্রাম্পের জয় সম্ভব ছিল না। এরপর যখন ট্রাম্প হুমকি দেন মাস্কের সব ফেডারেল কনট্রাক্ট বাতিল করার, তখনই উত্তেজনা আরোও বাড়ে। পাল্টা মাস্ক তখন হুমকি দেন, তিনি নাসার ব্যবহৃত ফ্যালকন রকেট সিস্টেম বন্ধ করে দেবেন। যদিও পরে তিনি সেই মন্তব্য থেকে পিছু হটেন।
ট্রাম্প-মাস্ক দ্বন্দ্বের মাঝেই মাস্ক নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব দেন এবং এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভোটের আয়োজন করেন। ভোটে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এই নতুন রাজনৈতিক দলের পক্ষে মত দেন। এরপর মাস্ক ঘোষণা করেন যে, তাঁর নতুন রাজনৈতিক দলের নাম হবে ‘দ্য আমেরিকা পার্টি’।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস’ জানায়, এই মনোমালিন্য মেটাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প ও মাস্কের ঘনিষ্ঠ মহল। কারণ এই দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক ও আর্থিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
