মেঘালয়-কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়! এই চিত্রনাট্য হার মানাবে সিনেমাকেও। গত কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে যবনিকা পতন! হানিমুনে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার স্ত্রী সোনম। আজ সোমবার উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। একই সঙ্গে আরও তিনজনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ভাড়াটে খুনি ব্যবহার করে রাজাকে খুন করিয়েছে সোনম। একেবারে পরিকল্পনা করেই এই ঘটনা বলেও দাবি পুলিশের।
গত ১১ মধ্যপ্রদেশের রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে সোনমের বিয়ে হয়। দেখাশোনা করেই দুজনের বিয়ে হয়। এরপরেই দুজন মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে হানিমুনে যান। কিন্তু সেখানে যে আগে থেকে সমস্ত চিত্রনাট্য তৈরি তা কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি রাজা। গত মাসের ২৩ মে থেকে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান রাজা এবং সোনম রঘুবংশী। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরেও ব্যর্থ হন পুলিশ আধিকারিকরা। পুরো ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনে চাঞ্চল্য পড়ে যায়। ঘটনার তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়ার দাবি উঠতে থাকে।
ঘটনায় একাধিক সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। কখনও অপহরণের তত্ত্ব তো আবার কখনও সোনম এবং রাজাকে দুষ্কৃতীরা খুন করেছে, সেই তত্ত্বও সামনে এসেছে। এর মধ্যেই এক গাইডের বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয় জল্পনা। তদন্তকারীদের সে জানায়, রাজা এবং সোনমকে গত ২৩ মে সে দেখেছিল। তাঁদের সঙ্গে তিনজন যুবক ছিল বলেও সে জানায়। যদিও ওই তিন যুবক কারা তা স্পষ্ট নয়। সোনমের ভাড়া করা দুষ্কৃতীরা কি না তাও স্পষ্ট নয়! যদিও বিষয়টি পুলিশের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যে গত ২ জুন রাজার দেহ উদ্ধার হয় স্থানীয় ওয়েইসডং জলপ্রপাতের কাছ থেকে। এরপরেই তদন্ত নয়া মোড় নেয়। রাজার দেহ উদ্ধার হলেও সোনম কোথায়? তদন্তকারীদের হাতে আসে নয়া সূত্র! কার্যত ঘুরে যায় খেলা। একটা ফোন কল সমস্ত রহস্যের যবনিকা পতন করে দেয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সোনম গাজিপুরে থাকা নিজের পরিবারকে ফোন করে। এরপরেই পরিবারের তরফে ইন্দোর পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়।
