কখনও খাবার ছিনতাই, কখনও আবার চশমা নিয়ে টানাটানি! এ যেন নিত্যদিনের চিত্র বৃন্দাবনের বাঁকে বিহারী মন্দিরের। এ মন্দির শুধু ধর্মপ্রেমীদের তীর্থক্ষেত্র নয়, এখানকার একঝাঁক দুষ্টু বাঁদরের কাণ্ড কীর্তি রোজকার ঘটনা। তবে এবার যা ঘটল, তা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে।
আলিগড়ের বাসিন্দা অভিষেক আগরওয়াল ও তাঁর পরিবার মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর বের হচ্ছিলেন। সেই সময় হঠাৎ একটি বাঁদর এসে তাঁর স্ত্রীর হাত থেকে ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চোখের পলকে গাছের ডালে উঠে পড়ে। ওই ব্যাগে ছিল একটি হিরের হার, দুটি হিরের আংটি, দুটি হিরের কানের দুল ও তিন জোড়া রুপোর পায়েল। যার মোট মূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। চোখের সামনে এমন কাণ্ড দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ বানরটিকে ধরার চেষ্টা করলেও, মুহূর্তেই গা ঢাকা দেয় বাঁদরটি। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন আগরওয়াল পরিবার।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মন্দির চত্বর ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাঁদরটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন। টানা আট ঘণ্টার চেষ্টার পর মন্দির সংলগ্ন ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকা সেই ব্যাগ উদ্ধার হয়। সৌভাগ্যক্রমে ব্যাগের সব গয়নাই অক্ষত অবস্থায় ছিল। ঘটনার বিষয়ে মথুরার ডিএসপি সন্দীপ কুমার সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ব্যাগটি ঝোপে পড়ে ছিল। কোন কিছুই খোয়া যায়নি।”
এদিনের ঘটনাটি ভাগ্যক্রমে মিটে গেলেও, বৃন্দাবনে বাঁদরের উৎপাত নিয়ে নতুন করে চিন্তা শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালেও এক বাঁদর জনৈকা মহিলার ব্যাগ নিয়ে ছাদে উঠে, দেড় লাখ টাকা ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে মন্দির চত্বরে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। বাঁদরের প্রতি ভক্তি থাকলেও তাদের বেপরোয়া আচরণ নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে বিপদ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
