সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
তাঁকে নিয়ে যত বিতর্কই থাক, কেন্দ্রের শাসকদল তাঁকে ” দুর্নীতিগ্রস্থ ” বলে সংসদের ভিতরে ও বাইরে অথবা মাঠে ময়দানে যতই শোরগোল করুক তাঁর সঙ্গেই আজ মুখোমুখি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাতারাতি ইউসুফ পাঠানকে সরিয়ে বিশ্বের দরবারে পাক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে এবং অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য বিবৃত করতে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পাঠানো হয়েছিল জাপান কোরিয়া সিঙ্গাপুর ইন্দোনেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে, তৃণমূল কংগ্রেসের সেই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের
মুখেই আজ দেশের মহিমা প্রচারের কথা শুনবেন প্রধানমন্ত্রী। যে সাতটি দলে বিভক্ত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়েছিলেন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কূটনীতিকরা, তাদের সম্মানে আজ দিল্লিতে নৈশ ভোজের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাক সন্ত্রাস বন্ধে ভারতের ভূমিকা এবং অপারেশন সিদুরের সাফল্য গাঁথা দেশে দেশে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং সেই দেশগুলির রাষ্ট্র নেতাদের কী প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে তা প্রধানমন্ত্রীকে বিবৃত করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দিনের পর দিন “কয়লা চোর”, “গরু চোর”, “চাকরি চোর” ইত্যাদি নানা বিশেষণ প্রয়োগ করে আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ, অমিত মালব্য, ধর্মেন্দ্র প্রধান, গিরিরাজ সিং চৌহান, কৈলাস বিজয়বর্গী সহ একাধিক কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব থেকে রাজ্যের সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারি ও দিলীপ ঘোষরা সেই অভিষেকের অভিজ্ঞতাই আজ শুনবেন, কেন্দ্রের শাসকদলের সর্বময় কর্তা তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলা বাহুল্য, এদিনের নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী এমনকি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেও।
উল্লেখযোগ্য, মোট সাতটি দলে বিভক্ত হয়ে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাস দমনে ভারতের কড়া অবস্থান ও অপারেশন সিঁদুরের সাফল্য তুলে ধরেন। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতরসহ
৩২টি দেশে ‘দেশের কথা ‘ তুলে ধরতে যান মোট ৫৯ জন সদস্য। রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিবিদদের সমন্বয়ে সাতটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের প্রতিটিতে
ছিলেন ৭-৮ জন সদস্য। শাসক জোট এনডিএ-র ৩১ জন এবং বিরোধী শিবিরের ২০ জন সদস্য ছিলেন এই প্রতিনিধিদলে। জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় কুমার ঝাঁ-এর নেতৃত্বে যে দলটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরে গিয়েছিল সেই দলেই অন্যতম বক্তা ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দলে ছিলেন বিজেপির অপরাজিতা সারঙ্গি, বিজেপি সাংসদ ব্রিজ লাল, সিপিএম সাংসদ জন বিট্টাস, বিজেপি সাংসদ প্রধান বড়ুয়া, হেমাঙ্গ যোশী ও কংগ্রেসের সলমন খুরশিদ এবং কূটনীতিক মোহন কুমার। ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে সাতটি দল দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়েছিলেন তারা সকলেই দেশে ফিরেছেন। আর তাদের কথা শুনতে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার এক বিশেষ নৈশ ভোজের আহ্বান জানিয়েছেন যেখানে দেশের প্রতিনিধি দলের বক্তব্য এবং তার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র নেতাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই নৈশভোজেই প্রধানমন্ত্রীকে পাঁচটি দেশে তাঁর ‘ দেশের কথা ‘ তুলে ধরার অভিজ্ঞতা বিবৃত করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
