সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
মুখোমুখি শাসক-বিরোধী বিধানসভায় শুরুতেই তুলকালাম। আচমকাই বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারির। বিধানসভায় বলতে না দেওয়ায় প্রতিবাদ বিজেপির। ওবিসি সংশোধনী সংক্রান্ত বিষয়ে বলতে না দেওয়ায় প্রতিবাদ। গেটের সামনে বেরিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ বিরোধী দলনেতার।
বিধানসভার দ্বিতীয় দিনে বিধানসভায় আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী তা আগে থেকেই জানা ছিল। তাই একদিকে যেমন নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি তেমনি অন্যদিকে উত্তেজনার আশঙ্কা ছিল বিধানসভার অলিন্দ জুড়ে।
একদিকে যখন রাজ্যের বিরোধী দলের প্রধান মুখ তথা দলনেতা তিনি ছিলেন বিধানসভায়, সেখানেই অপরদিকে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। আচমকাই বিবাদ, বলতে না দেওয়ায় প্রতিবাদ। মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করার পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য শেষ করার পরেই স্পিকার কাউন্সেলিং শুরু করে দেন। সে কারণেই কথা বলার সুযোগ পাননি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি। তার জেরেই ক্ষোভপ্রকাশ বিরোধী দলনেতা সহ বিজেপি পরিষদীয় দলের।
প্রসঙ্গত, মোট ১৪০ টি সম্প্রদায়কে নতুনভাবে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে রাজ্য। যার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৬১টি ও ৭৯টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকার নিরিখেই এই সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে রাজ্য সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য।
যদিও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে “হিন্দুদের সংরক্ষণ হরণ হচ্ছে”। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য জানান এখনও ৫০টি সম্প্রদায়ের সমীক্ষার কাজ বাকি আছে। এর বাইরে কারা অন্তর্ভুক্ত হবেন সে বিষয়ে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। দীর্ঘদিন ওবিসি জটে রাজ্যের শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে ভর্তি থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে কোন জটিলতা চায়না রাজ্য সরকার বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় বিরোধীপক্ষ। অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে দেখাতে থাকেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সহ বিজেপি বিধায়করা।
