সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
পহেলগাঁও কাণ্ডের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় পহেলগাঁও কাণ্ডে নিহতদের স্মৃতি তর্পণ এবং অপারেশন সিঁদুরে সেনাবাহিনীর সাফল্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে একটি বিশেষ প্রস্তাব আনা হয়। দেশের মধ্যে প্রথম বিধানসভা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এ ধরনের প্রস্তাব আনেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই প্রস্তাব সংক্রান্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু দেশের আর্মি বা বিএসএফ ইন্টেলিজেন্স ফেলিওরের কথাই উল্লেখ করেননি বরং পররাষ্ট্রনীতি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য ও সমস্যা নিয়ে প্রচারে কেন্দ্রের শাসক দলের ভূমিকা যথেষ্ট নেতিবাচক বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে মোদী সরকারের বিদায় এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগও চাইলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ” সব ইন্টেলিজেন্স ফেল করেছে। কেন কোনো খবর ছিলো না। জাতীয় আন্তর্জাতিক সব ক্ষেত্রে ফেল করেছে এই সরকার। যখন সব বিরোধী দল বিদেশে গিয়ে দেশের কথা বলছে তখন আপনি (নরেন্দ্র মোদী) ভোটের প্রচার করছেন। দেশের জন্য সমস্যা তৈরি করবেন না। ওরা দেশকে ভালোবাসে না। ওরা শুধু মার্কেটিংকে ভালোবাসে। আর্মি প্রধান, বিদেশ মন্ত্রী, মন্ত্রীদের বাইরে পাঠানো উচিত ছিলো। যেটা আপনাদের করা উচিৎ ছিলো সেটা দেশের বিরোধী দল করেছে। আপনাদের বিদায় নেওয়া উচিত, পদত্যাগ করা উচিত।”
মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা
“অপদার্থ বিজেপি দেশের সর্বনাশ।”
কয়েকদিনের জন্য হলেও একটা শিক্ষা (পাকিস্তানকে) দেওয়ার দরকার ছিল বলে মনে করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। “সন্ত্রাসবাদ কোনো ধর্ম নয়, জাতি নয়, এটা একটা আলাদা বাদ” মন্তব্য মমতার। পহেলগাঁওতে যে জঙ্গিরা এসেছিল তারা কোথা থেকে এসেছিল? কতদিন ছিল? কতগুলো নিরীহ মানুষকে মেরে দিয়ে কোথায় চলে গেল? কেন তাদের একজনকেও এখনও ধরা গেল না? জঙ্গিদের আটকানোর জন্য তো কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষীরা আছে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে জঙ্গিরা কিভাবে ঢুকলো? এদিন বিধানসভায় একের পর এক এভাবেই প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, “এই সময়ই তো সুযোগ ছিলো পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করে নেওয়া। কেন করা হলো না?” ফের প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও অপারেশন সিঁদুরের পরেও পাকিস্তান আর্থিকভাবে যে লাভবান হচ্ছে সে বিষয়েও সেদিন বিধানসভায় ইঙ্গিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের লোন পেল। দেশের ডিপ্লোমেসির কি হলো ? যদিও আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি জানি। তিনি ভালো মানুষ।
পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,”আমি তাঁকেও কুর্নিশ জানাই সেই মুসলিম ভাইকে যিনি ওখানে (পহেলগাঁও) হিন্দুদের বাঁচাতে গিয়ে গুলি খেয়েছিলেন।” পশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “এখানে অনেকে আছেন যারা এই বাংলায় জন্মেছেন, তবু এই বাংলাকে সম্মান করেন না। বাংলায় যারা জন্মেছেন তারা যদি বাংলার মাটিকেই মনে না রাখেন তাহলে কী হবে। সারা দেশের মধ্যে বাংলাই প্রথম যেখানে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীকে কুর্নিশ জানানো হচ্ছে।”
