মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় রাজা রঘুবংশীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। একবার নয়, ধারালো অস্ত্র দিয়ে করা হয়েছে দু’বার হামলা। একবার পিঠে এবং দ্বিতীয়বার মাথাতে আঘাত করা হয়। আর তাতেই মৃত্যু হয় রাজার। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। শুধু তাই নয়, শরীরজুড়ে একাধিক ক্ষত আছে বলেও দাবি রিপোর্টে। তবে রাজার শরীরে থাকা দুটি ক্ষত ধারালো কোনও অস্ত্রের সাহায্যে করা হয়েছে বলে অনুমান পুলিশের।
গত ২ জুন রাজার দেহ উদ্ধার হয় স্থানীয় ওয়েইসডং জলপ্রপাতের কাছ থেকে। উদ্ধার হয় রক্তমাখা একাধিক জিনিস। তবে রাজার শরীরে থাকা সোনার হার, আংটি কিছু পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ধৃত সোনম রঘুবংশীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। যা খবর, মেঘালয় পুলিশের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যে সোনম রঘুবংশীর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহাকেও মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, রাজা রঘুবংশীর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে খুব শীঘ্রই সোনম এবং রাজকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। অন্যদিকে গাজিপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, গোরখপুর হাইওয়ে এলাকায় ওই মহিলা ছিল। এরপরেই পুলিশের টিম গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে গাজিপুর পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে ধৃত সোনম।
রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে মুল অভিযুক্ত সোনমের বাবা দেবী সিং রঘুবংশী জানিয়েছেন, হোটেলের ফোন থেকে ভাইয়ের সঙ্গে সোনম কথা বলেছিল। হোটেলের কর্মীরাই তাকে ফোন দিয়েছিল। ভোর পাঁচটায় এই ফোনালাপ হয় বলে জানিয়েছেন দেবী সিং। তাঁর কথায়, ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় খুব কাঁদছিল মেয়ে। মেয়ে কখনই এমন ঘটনা ঘটাতে পারে না বলেও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন সোনমের বাবা। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে রাজার মা অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনিও এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। বলে রাখা প্রয়োজন, গত বিয়ের পর মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় রাজা এবং সোনাম। যা নিয়ে উত্তাল হয় দেশ। আর এই ঘটনার প্রায় ১৭ দিন পর বড় সাফল্য পুলিশের।
