সাংগঠনিক রদবদলে রাতারাতি গুরুত্ব বেড়ে গেল বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের। তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত সাংগঠনিক জেলার চেয়ারপার্সন করা হল তাঁকে। সভানেত্রী হিসেবে অবশ্য থাকছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারই। তবে রদবদলে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এ বার ফুরফুরা শরিফেও সরাসরি ঢুকে পড়ল তৃণমূল। আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকির ভাই কাশেম সিদ্দিকিকে দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। দলনেত্রীর এই সিদ্ধান্ত ফুরফুরার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্যেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শিলিগুড়ির বর্ষীয়ান নেতা শঙ্কর মালাকারকে করা হয়েছে দলের অন্যতম সহ-সভাপতি।
ফুরফুরা শরিফের নৌশাদ সিদ্দিকি নিজে ভাঙরের আইএসএফ বিধায়ক। তাঁকে যখন পুলিশ গ্রেফতার করেছিল তখন রাজ্য সরকারের দিকে একের পর এক তোপ দেগেছিলেন সম্পর্কে নৌশাদের ভাই কাশেম। সেই কাশেমই হলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। অর্থাৎ, ফুরফুরায় আইএসএফের একচেটিয়ায় ভাগ বসাবে রাজ্যের শাসক দল। যদিও এই ইঙ্গিত ক’দিন আগেই পাওয়া গিয়েছিল। পুরসভার ইফতারে দলবল নিয়ে আমন্ত্রিত ছিলেন কাশেম। সে দিন থেকেই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত ছিল। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, তৃণমূলে পদ পেলেন একদা মমতা সরকারকে তুলোধোনা করা প্রাক্তন আইএসএফ নেতা কাশেম। তবে, কাঁটাও আছে। সেই মুকুল রায়ের আমল থেকেই ফুরফুরার পিরজাদা ত্বহা সিদ্দিকিকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হত। তাঁকে টপকে সেই পরিবারেরই কাশেমকে তৃণমূলের পদ দেওয়া ত্বহা কী ভাবে নেবেন তা এখনও অজানা। সে ক্ষেত্রে ত্বহার সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক নতুন পথে গড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে এখনও কোন মন্তব্য আসেনি নৌশাদের।
অন্যদিকে, তাৎপর্যপূর্ণ বদল এসেছে জেলা সংগঠনেও। ইদানীং দলে এবং নেত্রীর কাছে ব্যাপক তৎপর সব্যসাচী দত্তকে বারাসত সাংগঠনিক জেলার চেয়ারপার্সন করা হয়েছে। ঘটনা হল, সব জেলার সংগঠন আগে ঘোষণা হলেও বাকি ছিল শুধু কাকলির বারাসত। তৃণমূলের অন্দরে গুঞ্জন ছিল, এই জেলার সভাপতি এবং চেয়ারম্যান বাছাই নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে মমতা এবং অভিষেকের। কিন্তু দেখা গেল, কাকলিকে তাঁর পুরনো পদে রেখে চেয়ারপার্সন করে দেওয়া হল অধুনা নিউটাউন-রাজারহাটের বাসিন্দা সব্যসাচীকে। মুর্শিদাবাদে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়াই হোক বা কার্তিক মহারাজের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে মানহানির মামলা— সম্প্রতি সব্যসাচীর তৎপরতা চোখ এড়ায়নি কারও। অনেকেই মনে করেছিলেন, রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার টিকিটের দিকে তাকিয়েই সব্যসাচীর এই সক্রিয়তা। সেই দিকে তাকিয়েই সল্টলেকের বাড়ি ছেড়ে তাঁর নিউটাউনে বাড়ি নেওয়া। কিন্তু সেখানে বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটের অনেক কাছের। ফলে লড়াই সহজ নয়। এরই মধ্যে বারাসত সাংগঠনিক জেলার চেয়ারপার্সন করে দেওয়া হল সব্যসাচীকে। যে সিদ্ধান্তের পর আগামিদিনে ওই আসনের লড়াই যে আরও উত্তেজক জায়গায় পৌঁছবে, ইতিমধ্যেই তার আঁচ পেতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সম্প্রতি, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন শিলিগুড়ির দাপুটে কংগ্রেস নেতা তথা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের ১০ বছরের বিধায়ক থাকা শঙ্কর মালাকার। তাঁকে প্রত্যাশিত ভাবেই দলের অন্যতম সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
