মেঘালয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর্দাফাঁস সোমবার! হানিমুনে গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বামীকে খুনের ঘটনায় শিউরে উঠছে দেশ। ইতিমধ্যে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্রও হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ শীর্ষ আধিকারিকরা বলছেন রাজা রাজবংশীকে খুনের পর একেবারে পরিকল্পনা মতো সবকিছু চলছিল। কিন্তু স্ত্রী সোনমের ছোট ভুল সমস্ত অপরাধের পর্দাফাঁস করে দেয়।
মেঘালয় পুলিশের দাবি, গত ২ জুন ওয়েইসাওডং জলপ্রপাতের কাছে একটি গভীর খাদ রাজার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। শরীরে এমনই পচন ধরেছিল যে মুখ দেখে কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। কিন্তু হাতে থাকা ট্যাটু চিনিয়ে দেয় যে দেহটি রাজার। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে স্পষ্ট হয় যে রাজাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। শরীরে থাকা একাধিক ক্ষত দেখে তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে খুনে ধারাল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, গত ৪ তারিখ ঘটনাস্থল থেকে একাধিক জিনিস উদ্ধার হয়, যার মধ্যে ছিল এক মহিলার সাদা একটা জামা, ওষুধের ব্যাগ, ভেঙে যাওয়া মোবাইলের স্ক্রিন এবং একটি স্মার্টওয়াচ। আর এরপরই খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে মেঘালয় পুলিশ।
ঘটনার তদন্তে রাজাকে খুনে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার হয়। তদন্তকারী দলের থাকা শীর্ষ এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘উদ্ধার হওয়া ছুরি এই অঞ্চলে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না, যার ফলে সন্দেহ তীব্র হয় যে এলাকার বাইরের কেউ এই ঘটনায় জড়িত’। এরপর রাজা এবং সোনমের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি ওই পুলিশ আধিকারিকের।
তিনি আরও জানান, তদন্তে দেখা যায় নৃশংসভাবে খুনের আগে ধৃত সোনম ভাড়া করা একজন খুনির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এমনকী তার অবস্থান ধারে কাছে ছিল বলেও দাবি। আর এরপরেই মেঘালয় পুলিশের কাছে অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু সোনমকে হাতে পাওয়াটা ছিল পুলিশের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ! কিন্তু একটা ফোনই সব রহস্যের পর্দাফাঁস করে দেয়।
বলে রাখা প্রয়োজন, সোমবার সকালে বারাণসী-গাজিয়াবাদ প্রধান সড়কের কাছে একটি ধাবা থেকে সোনমকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। জানা যায়, ওই ধাবার এক কর্মীর কাছ থেকে ফোন নিয়ে সে বাড়িতে ফোন করে। সূত্রের খবর, ভোর পাঁচটা নাগাদ সোনম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে। মধ্যপ্রদেশ পুলিশ সেই ফোনালাপকে ট্র্যাক করে এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে জানায়। সঙ্গে সঙ্গে বিশাল টিম গিয়ে ওই ধাবা থেকে সোনমকে গ্রেফতার করে।
ইতিমধ্যে মেঘালয় পুলিশ সোনমকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর প্রেমিক রাজকেও। রাজাকে খুনের রহস্য উন্মোচনে খুব শীঘ্রই ধৃত দুজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। বলে রাখা প্রয়োজন, বিয়ের পর মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় রাজা এবং সোনম। যা নিয়ে উত্তাল হয় দেশ। প্রশ্ন উঠতে থাকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে। ঘটনার দীর্ঘ ১৭ দিন পর সোমবার সকালে সমস্ত রহস্যের পর্দাফাঁস হয়।
