কলকাতা থেকে গ্রেফতার হলেন পর্নকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত হাওড়ার বাঁকরার বাসিন্দা শ্বেতা খান ওরফে ফুলটুসি। গত পাঁচ দিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। বুধবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার গল্ফগ্রিন থেকে গ্রেফতার করা হয় এই ঘটনায় আর এক অভিযুক্ত তথা শ্বেতার পুত্র আরিয়ান খান। তখনই বোঝা গিয়েছিল, শ্বেতার গ্রেফতারি এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতারই আলিপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন ফুলটুসি।
গত সপ্তাহে ফুলটুসির কীর্তির কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সোদপুরের এক যুবতীকে দিনের পর দিন আটকে রেখে অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়। কাজের টোপ দিয়ে ওই তরুণীকে জোর করে পানশালায় নাচতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আর তা না করায় চলে অকথ্য অত্যাচার। সোদপুরের নির্যাতিতা তরুণী সরকারি এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নামে হাওড়া কমিশনারেট। সামনে আসে শ্বেতার একের পর এক কীর্তি। আর তাতে সঙ্গ দেয় ছেলে আরিয়ানও।
সফট পর্ন তৈরি থেকে অন্ধকার জগত— সর্বত্র অবাধ যাতায়াত ছিল ‘পর্ন কুইন’ শ্বেতার। তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও শ্বেতার দেখা মিলত। সেই ছবি নিজেই ফলাও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেন ফুলটুসি। এর পর মা-ছেলের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। অভিযুক্তদের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছিল। এমনকী কোনও আর্থিক লেনদেন হচ্ছে কি না, সে দিকেও নজর ছিল তদন্তকারীদের। সূত্রের খবর, শ্বেতার মা’কে জেরা করেই আরিয়ানের খোঁজ পান পুলিশ আধিকারিকরা। ছেলেকে গ্রেফতারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের জালে পড়লেন শ্বেতাও।
