সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বিশ্বজুড়ে নির্বাচনী সমন্বয় ও গণতন্ত্র রক্ষায় ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিশ্বজুড়ে নির্বাচনী সংহতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচন কর্তৃপক্ষ গুলির ভূমিকা কি সেই উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক স্টকহোম কনফারেন্সে মূল বক্তা হয়ে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচন পরিচালনার কান্ডারী হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বিশ্বের ৫০ টি দেশের ১০০-র বেশি প্রতিনিধিদের এই সম্মেলনে ভারতীয় নির্বাচন পদ্ধতির গণতান্ত্রিক রীতিনীতি নির্বাচনী সংহতি, নির্বাচনী পদ্ধতি গভীরতা ও বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের আদর্শ তুলে ধরেন জ্ঞানেশ কুমার। ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ঐতিহ্য রক্ষা করে নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। মূলত যে দেশে বহু রাজনৈতিক দল, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাজনৈতিক প্রার্থী, দেশের গণমাধ্যম সর্বোপরি প্রায় ১৪০ কোটি দেশবাসী নির্বাচন নিয়ে প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করেন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারতের মতো দেশে নির্বাচনী গভীরতা কোন পর্যায়ে তা বিশদে ব্যাখ্যা করেন জ্ঞানেশ কুমার। ভোট কর্মী, রাজনৈতিক দলের এজেন্ট, পুলিশ ও প্রশাসনিক পদাধিকারী, সরকারি বেসরকারি এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে সঙ্গে নিয়ে সর্বোপরি প্রায় দু কোটি নির্বাচন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের সংসদীয় নির্বাচনে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের রাজসূয় যজ্ঞ পালন করতে গিয়ে যে বৈচিত্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে সংহতি রক্ষা বা সমন্বয় সাধনের কাজ করতে হয় তা গোটা বিশ্বে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে বলেও দাবি করেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ভারতে ১৯৫১-৫২ সাল থেকে সংসদীয় নির্বাচনের কাজ শুরু হয়েছে যখন দেশে ১৭৩ মিলিয়ন মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ২০২৪ সালের সংসদীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ মিলিয়ন। এই বিপুল কর্মকাণ্ড সামলাতে গিয়ে প্রচুর জটিলতা এবং নির্বাচনী বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এগোতে হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে দেশে ৭৪৩ টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে যার মধ্যে ৬টি জাতীয় দল এবং ৬৭ টি রাজ্য দল সহ আরও বহু রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল যুক্ত রয়েছে। দশ লক্ষেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে ২০ হাজার ২৭১ ভোটপ্রার্থী ভোটযজ্ঞে সামিল হয়েছেন। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের এই সর্ববৃহৎ কর্মযজ্ঞ সুসংহত উপায়ে, নিরাপদে এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার কঠিন কাজ সম্পন্ন করার মত সাফল্য দেখিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন বলেও দাবি করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। ভারতের মতো জনবহুল শুধু নয় বিভিন্ন ভাষাভাষীযর ও ধর্মাবলম্বী মানুষের দেশে ভোটার তালিকা তৈরির মতো জটিল ও কঠিন কাজ নির্বিবাদে সম্পন্ন করে বছরের পর বছর ধরে দেশবাসীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কাজ করে আসছে নির্বাচন কমিশন। ত্রুটিহীন, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির এই মেকানিজম গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে বলেও জানিয়েছেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের অগ্রণী বা পথপ্রদর্শক হিসেবে বক্তৃতার মাধ্যমে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন শুধু ভূমিকা পালন করেনি এই সম্মেলনের ফাঁকে মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া, ইউক্রেন, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য, মলডোভা, লিথুয়ানিয়া ,মরিশাসের মত দেশগুলির সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থাপনা এবং তার মেকানিজম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রূপরেখা নিয়েও বিশদে দেশগুলির নির্বাচনী কর্তাদের বিবৃত করেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
