বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সরকারের অংশ হবেন এমন কোনো সম্ভাবনা বা ইচ্ছে তাঁর নেই বলে জানিয়ে দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার লন্ডনের চ্যাথাম হাউজে রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে এক আলোচনার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। ইউনূস জানান অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব হল একটি সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলে যে, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে নির্বাচনটা ঠিক ভাবে হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।” বাংলাদেশের সংবাদপত্র দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
জুলাই আন্দোলন ও শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা নিয়ে জটিলতার শেষ নেই।গত শুক্রবার ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এপ্রিলের প্রথমার্ধের যেকোনও একটি দিনে নির্বাচন হওয়ার কথা জানালেও তাতে সহমত দেয়নি বিএনপি। আগের দাবি বজায় রেখে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ফের নির্বাচন করানোর কথা জানিয়েছে তারা। অনেকেই ইউনূস ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চান বলে অভিযোগ করেছেন। এমনকী তাঁর পাশে থাকা রাজনৈতিক দলের হাত ধরে তিনি ক্ষমতায় ফিরতে চাইছেন বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার দল ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চাইলেও এই ইস্যুতে মুহাম্মদ ইউনূসের পাশেই দাঁড়িয়েছে জামাত। অন্যদিকে নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন না তুলে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র তৈরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করার উপর জোর দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এমন পরিস্থিতিতে চ্যাথাম হাউজে ইউনূস বলেন, আমি মনে করি আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের কেউই পরবর্তী নির্বাচিত সরকারে যোগ দিতে চান না। তাঁর দাবি,” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন হবে।”
সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লিগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন যে যখন আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে যুবকদের হত্যা, নাগরিকদের গুম এবং জনগণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তখন এটি আদৌ একটি রাজনৈতিক দল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি জানান, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তাঁরা মনে করেছিলেন আওয়ামী লিগের অধ্যায়টি শেষ হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, যাঁরা দেশ ছেড়েছেন(আওয়ামী লিগ নেতারা)—তাঁদের কেউই অনুশোচনা প্রকাশ করেননি, বরং উসকানি দিচ্ছেন।
সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেন, “দেশের নিরাপত্তা ও রাজনীতিবিদদের সুরক্ষার স্বার্থে আপাতত আওয়ামী লিগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এটাই আমরা করেছি।”
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর সিটি কর্পোরেশনের বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তার উত্তরে ইউনূস বলেন, “একসঙ্গে অনেক প্রশ্ন ও ইস্যু এসেছে। সবকিছুকে সঠিকভাবে সামলানো আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এটা এমন একটা সময় ছিল, যেখানে অনেক কিছু ঘটেছে এবং পরে তা নিয়মে এসেছে। জাতিকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।”
Leave a comment
Leave a comment
