সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে ব্যাঙ্ক ও সরকার একযোগে কাজ করছে। ফলে ঋণ প্রাপ্তির পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে বলে দাবি বিভাগীয় মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার। বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মধুসূদন বাগের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মন্ত্রী জানান, “এ পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ক্ষেত্রে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর হয়েছে। রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পখাতে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে।”
যদিও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য ঘিরেই পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী। এই ৩০০ কোটির মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত, সমবায় ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক, সবচেয়ে বেশি ঋণ কারা দিয়েছে তা জানতে চান বিজেপি বিধায়ক। গত ১৪ বছরে ব্যাঙ্কগুলির ঋণ দেওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অশোকবাবু। জবাবে মন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে তাঁর কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, “আগে অনেক সময়েই ব্যাঙ্কগুলি ঋণ দিতে অনীহা দেখাত। কিন্তু এখন সেই অনীহা অনেকটাই কেটেছে। সরকারি ব্যাঙ্কগুলিই এখন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে।”
উল্লেখযোগ্য, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের স্থান অগ্রগণ্য। গত এক দশকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি সূচক যেমন ঊর্ধ্বমুখী তেমনি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বা আর্থসামাজিক উন্নয়নে এই রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ভূমিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। শিল্প বিনিয়োগের হারও আশাপ্রদ। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ক্ষেত্রে ঋণদানের বিষয়ে আগের থেকে অনেকটাই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিও। ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমবায় ও গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলো ঋণদানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী এই শিল্পক্ষেত্রে আগের থেকে অনেকটাই বেশি সাড়া মিলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর পক্ষ থেকেও। সামাজিক উন্নয়নে এবং কর্মসংস্থানের সূচক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই অগ্রগতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাও।
