কথায় আছে রাখে হরি মারে কে! চারপাশ জুড়ে যখন ছড়িয়ে দেহ, হাহাকার-কান্না। সেই সময় মিরাকল। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বেঁচে গিয়েছেন বিশ্বাস কুমার রমেশ নামে এক যাত্রী। আহমেদাবাদ পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এক যাত্রী প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। অভিশপ্ত বিমানের ১১এ আসনের বিমানের যাত্রী ছিলেন তিনি। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করেছে। বর্তমানে গুজরাতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশ্বাস কুমার। ইতিমধ্যে তাঁর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বাস কুমারের শরীর জুড়ে ক্ষত। পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আতঙ্ক থাকলেও এখনও স্থিতিশীল বিশ্বাস কুমার রমেশ। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এখনও মুহূর্তের কথা মনে পড়লে শিউরে উঠছেন।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে ৪০ বছরের বিশ্বাস কুমার জানিয়েছেন, টেক অফের তিন সেকেন্ড পর থেকেই ব্যাপক আওয়াজ হতে শুরু করে। আর এরপরেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেটি। তাঁর কথায়, মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ঘটে যায়। কেউ কিছু বোঝার পরিস্থিতিতে ছিলেন না বলেই দাবি। তিনি বলেন, ‘জ্ঞান আসার পর দেখলাম আমার চারপাশ জুড়ে শুধুই লাশ। ভয় শিউরে উঠেছিলাম, কিছু না ভেবেই দৌড়তে শুরু করি’।
ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাণে বেঁচে যাওয়া একমাত্র যাত্রী জানাচ্ছেন, শুধু দেহই নয়, চারপাশ জুড়ে আগুন জ্বলছিল, ছড়িয়ে ছিল বিমানের ভেঙে পড়া অংশ। এর মধ্যে থেকে কেউ তাঁকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে নিয়ে আসেন বলে জানান বিশ্বকুমার রমেশ। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিশ্বকুমার ব্রিটিশ নাগরিক। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গত কয়েকদিন আগে ভারতে আসেন।
ভাইয়ের সঙ্গে ব্রিটেন ফিরছিলেন। বিশ্বকুমার রমেশ জানিয়েছেন, গত ২০ বছর ধরে লন্ডনে থেকেছেন। স্ত্রী এবং সন্তানরাও লন্ডনে থাকেন। কিন্তু এমন ঘটনার যে সাক্ষী হতে হবে তা কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি।
