আবারও শোকস্তব্ধ দেশের আকাশ। বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ওড়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই মেঘানি নগরের কাছে ভেঙে পড়ে। ‘বোয়িং বি- ৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ মডেলের এই বিমানটি ২৪৭ জন যাত্রী ও ১৩ জন ক্রু নিয়ে রওনা দেয়, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিকট শব্দে ধ্বংস। ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার কুন্ডলী। এখনও পর্যন্ত বহু মৃত্যুর আশঙ্ক।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা বোয়িং ৭৮৭ সিরিজের ইতিহাসে প্রথম মারাত্মক ‘ফেটাল হল লস’। এর আগেও এই ড্রিমলাইনার মডেলটি নিয়ে একাধিক কারিগরি সমস্যা সামনে এসেছে—বিশেষত ব্যাটারি থেকে আগুন লাগার অভিযোগে ২০১৩ সালে গোটা ফ্লিটকেই সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়। এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার বিমান দুর্ঘটনায় কেঁপেছে দেশ।
২০২০ সালের ৭ আগস্ট কোঝিকোড়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইট রানওয়ে অতিক্রম করে খাদে পড়ে, প্রাণ হারান ২১ জন।
২০১০ সালে ম্যাঙ্গালোরে এয়ার ইন্ডিয়ার আরেকটি ফ্লাইট ভেঙে পড়ে, যেখানে ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
২০২৪ সালের মার্চে LATAM-এর বোয়িং ৭৮৭-৯ মাঝ আকাশে আচমকা নেমে গিয়ে ৫০ জন যাত্রী আহত হন।
২০০০ সালে পাটনায় একই ভাবে সরকারি কোয়াটারের উপর ভেঙে পড়ে একটি যাত্রীবাহী বিমান। তাতে অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয়।
১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ভারতের আকাশ পরিবহণের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা। মাঝ আকাশে সৌদি এবং কাজাখ এয়ারলাইন্সের দুটি বিমানের সংঘর্ষ হয়। চরখিদাদরির আকাশে ঘটা সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ৩৪৯ জনের।
.
আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনা সেই সব দুঃসহ স্মৃতিকে আবার ফিরিয়ে আনল। প্রসঙ্গত, ইতিহাসে এই প্রথম বার ‘ড্রিমলাইনার বি-৭৮৭’ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ল। এভিয়েশন দুনিয়ায় এই মডেলের বিমানকে সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তাহলে কি কারণে দুর্ঘটনা? তদন্ত শুরু হয়েছে, কিন্তু উত্তর এখনও অন্ধকারে। ভারতীয় বিমান পরিবহণের ইতিহাসে এই দিনটি নতুন করে লেখা থাকবে—রক্তাক্ত অক্ষরে।
