ইরান ইস্যুতে ফের একবার সংঘাতের পথে আমেরিকা! মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান কখনও পরমাণু বোমা বানাতে পারবে না। এমনকী আমেরিকাই যে তা করতে দেবে না তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। যা মোটেই ভালো চোখে নেয়নি তেহরান। ট্রাম্পের এহেন হুঁশিয়ারি ঘিরেই মধ্য এশিয়ায় আশঙ্কার কালো মেঘ তৈরি হয়েছে। আর এর মধ্যেই মধ্য পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরানোর কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, আগামিদিনে এটা ভয়ঙ্কর জায়গা হয়ে উঠতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় সেদিকে যে নজর থাকবে তাও জানিয়েছেন।
বুধবারই সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, আমেরিকা ইরাকের দূতাবাস থেকে আংশিকভাবে কর্মীদের সরাচ্ছে। যেভাবে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে সেদিকে নজর রেখেই দূতাবাসের কর্মী, কূটনীতিকদের পরিবার নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যেতে বলছে। এমনকী একাধিক ইস্যুতে আমেরিকার তরফে চূড়ান্ত সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকরা যাতে ইরাকে যাত্রা না করেন সেই বার্তাও মার্কিন বিদেশ দফতরের তরফে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, মার্কিন বিদেশ দফতর বাহরিন এবং কুয়েতে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত এলাকা থেকে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছে। কেন চূড়ান্ত সতর্কতা তা স্পষ্ট করা হয়নি এখনও পর্যন্ত। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ইজরায়েল ইরানের পরমাণু ঘাঁটিতে পরমাণু হামলা চালাতে পারে। আর তার অভিঘাত ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে আশঙ্কা।
বিশেষ করে প্রভাব পড়তে পারে গোটা পশ্চিম এশিয়াতে। আর এরপরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এহেন সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকা নিজেদর কর্মী, আধিকারিকদের বের করে আনছে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব জুড়ে শুরু হয়েছে একাধিক জল্পনা। একধাক্কায় তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা। অন্যদিকে আমেরিকার উপর চাপ বাড়িয়েছে তেহরানও। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে থাকবে কি না তা বলার আমেরিকা কে? এমনকী তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি।
