সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে স্বনির্ভর ও দক্ষ করার লক্ষ্যে এবং সামগ্রিক ভাবে পঞ্চায়েত স্তরের প্রশাসন-পরিষেবার মানোন্নয়নে এবার ‘গুরু’ পঞ্চায়েত তৈরি করছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতাভুক্ত করে এই কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। ‘গুরু’ পঞ্চায়েত কারা? উন্নয়ন এবং নাগরিক পরিষেবা সহ একাধিক দিক থেকে এগিয়ে থাকা পঞ্চায়েতগুলি এবার ‘লার্নিং সেন্টার’ গড়ে তুলে পিছিয়ে থাকা পঞ্চায়েতগুলিকে প্রশিক্ষণ দেবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে শতাধিক এমন গ্রাম পঞ্চায়েতকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই উদ্যোগে পিছিয়ে থাকা ও দুর্বল পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের দুই থেকে তিন দিনের জন্য এই ‘লার্নিং সেন্টারে’ পাঠানো হবে। কীভাবে উন্নয়নের কাজ পরিচালনা করতে হয় এবং পঞ্চায়েত স্তরে পরিষেবা প্রদানের মান উন্নত করতে কী করা প্রয়োজন তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে জনপ্রতিনিধিরা ফিরে গিয়ে নিজেদের পঞ্চায়েতে সেই মডেল অনুসরণ করে কাজ করবেন।
পঞ্চায়েত দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই পদ্ধতিতে ‘গুরু’ পঞ্চায়েতগুলি হবে মডেল। যারা ইতিমধ্যেই রাজ্য বা কেন্দ্রীয় স্তরে পুরস্কৃত হয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাজে লাগবে বলেই এই পরিকল্পনা। নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান-সহ একাধিক জেলায় এই ধরনের লার্নিং সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে, যেসব পঞ্চায়েতে ‘লার্নিং সেন্টার’ হবে, তাদের পক্ষ থেকে ডিপিআর, পরিকল্পনা এবং প্রস্তাব তৈরি করে দফতরে জমা দিতে হবে।
‘লার্নিং সেন্টার’ হওয়া পঞ্চায়েত এলাকায় অতিথি জনপ্রতিনিধিদের থাকার জন্য হোম-স্টে-র মতো ব্যবস্থাও করা হবে স্থানীয় গ্রামবাসীদের বাড়িতে। প্রশিক্ষণ, থাকা ও খাওয়ার সমস্ত খরচ বহন করবে ওই ‘লার্নিং সেন্টার’ পঞ্চায়েত।
এই পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান’ প্রকল্পের আওতায়। কেন্দ্রের তরফে প্রত্যেক জেলাকে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) পাঠানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে কীভাবে লার্নিং সেন্টার পরিচালনা করতে হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলির মধ্যে থাকবে গ্রাম পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান তৈরি, জীবিকা উন্নয়ন, দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, কম খরচে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিশুবান্ধব গ্রাম গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
