বুধবার ছিল জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। সেই উপলক্ষে কয়েক লাখ ভক্ত সমাগম হয়েছিল পুরীতে। আর সে দিনই ভয়াবহ ঘটনা জগন্নাথ ধামে! এক প্রবীণ সেবায়তকে নৃশংস ভাবে খুন করা হল। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পুরীর গুড়িয়াসাহিতে। মৃত ওই সেবায়েতের নাম জগন্নাথ দীক্ষিত বলে জানা যাচ্ছে। যিনি পুরীর মন্দিরের রাঁধুনি হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার পুরীর গুড়িয়াসাহি বলে একটি এলাকায় জগন্নাথ দীক্ষিতের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরীতে। স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার পরেও কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই ঘটনার আগে মৃত জগন্নাথের সঙ্গে প্রতিবেশীর ঝামেলা হয়। এর পরেই দেহ উদ্ধারের ঘটনা। প্রতিবেশীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, কী ভাবে খুন তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার হওয়া দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে মন্দিরের সেবায়েতদের কাজের চাপ ছিল যথেষ্টই। রীতি মেনে সমস্ত কাজ করতে হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার স্নান পূর্ণিমা উপলক্ষে ৮৩ বছরের জগন্নাথ দীক্ষিত তাঁর নির্দিষ্ট কাজ সেরে ফিরছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় গুডিয়াসাহিতেই প্রতিবেশী নারণ পটজোশির বাড়িতে যান। বেশ কয়েক মাস আগে তাঁকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন জগন্নাথ। তা চাইতেই সেখানে গিয়েছিলেন বলে খবর। স্থানীয়দের দাবি, তা নিয়েই দু’জনের ব্যাপক বচসা হয়। এর পরেই রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার। পরিবারের দাবি, পাওনা টাকা চাওয়াতেই খুন করা হয়েছে জগন্নাথকে। যদিও ঘটনার পর অভিযুক্ত নারণ পটজোশি এবং তাঁর পরিবারের সমস্ত সদস্য এলাকা ছাড়া।
অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমকে স্থানীয় পুলিশ সুপার বিনীত আগরওয়াল বলেছেন, “প্রাথমিক ভাবে একে খুনের ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণেও হতে পারে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।”
