গুজরাতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বিমান ক্র্যাশের খবরে বিষণ্ণ দেশ। আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকের উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ক্র্যাশ এবং তৎপরবর্তী মৃত্যুমিছিল। বিমানে ছিলেন ২৪২ জন যাত্রী। একজন বাদে আর সবারই অকালমৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি রমেশ বিশ্বাসকুমার আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সঙ্গে দেখা করে শরীরের খোঁজখবর নিয়েছেন। কিন্তু বিমান দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবারের চোখের জল বাঁধ ভেঙেছে। ওই ড্রিমলাইনারেই ছিলেন কারও সন্তান, কারও কন্যা-জামাই, কারও ভাই-বোন, নাতি, নাতনি, মেয়ে, ছেলে— আজ সকলেই মৃত।
প্রিয়দর্শিনী(নাম পরিবর্তিত) যে ভাবে হোক, ওর বাবাকে ফেরত চায়। একটি নিউজ চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হাউ-হাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। সেই সময় তাঁর রাগ গিয়ে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ঘাড়ে। তারপর বলতে থাকেন, “আমার বাবা কি ভুল করেছিল যে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে বসতে গিয়েছিল! বাবা বলতো, এয়ার ইন্ডিয়া আমার দেশের জিনিস। কোথাও গেলে আমি দেশের জিনিসে চেপেই যাব। এয়ার ইন্ডিয়া কি প্লেন ছাড়ার আগে একবারও পরীক্ষা করে দেখেছে যে, ওই প্লেন আদৌ ওড়ার উপযুক্ত কি না?” টাটা গ্রুপ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা দেবে বলে ঘোষণা করেছে। প্রিয়দর্শিনীকে এনিয়ে প্রশ্ন করতেই ফুঁসে ওঠেন তিনি। বলেন, “১ কোটি টাকায় এরা বাবাকে কিনতে চায়? আমি ওদের ২ কোটি দেব। আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিক।” আবার কান্নায় ভেঙে পড়ে মেয়ে। নিজেকে একটু সামলে নিয়ে আসহায় মেয়ে বলে, “এয়ার ইন্ডিয়া ম্যানেজমেন্ট কি ইয়ার্কি করছে? আমি ওদের ২ কোটি দেব, আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও।”
যিনি বাবা হারিয়েছেন, মেয়ে, স্বামী, সন্তান… তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। বিমানটি ভেঙে পড়ে একটি মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন ডাক্তারদের হস্টেলের উপর। সেই সময় লাঞ্চ ব্রেক। তাই হস্টেলের একেবারে উপর তলায়, ডাইনিং হল গমগম করছিল হবু ডাক্তারবাবুদের কলরবে। আচমকাই মাথায় ভেঙে পড়ল আস্ত বিমান! জানা গিয়েছে, ওই হস্টেলে ৫০-৬০ জন হবু ডাক্তারবাবু থাকতেন। সেখানে কত মৃত্যু এখনও আলাদা করে জানা যায়নি। উদ্ধারকাজ চলছে এখনও।
যে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে সেটি ‘বোয়িং ড্রিমলাইনার’ শ্রেণির। যা দুনিয়ায় নিরাপদতম বিমান বলে বহুদিন ধরে স্বীকৃত। দুর্ঘটনার পর জানা গেল, এই প্রথম দুর্ঘটনায় পড়ল ওই শ্রেণির কোনও বিমান। কিন্তু সত্যিটা হল, সেই নিরাপদতম বিমানই কেড়ে নিল দু’শতাধিক প্রাণ।
