চারদিকে পোড়া লাশ। আস্ত একটা বিমান টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। এত প্রচণ্ড তাপ যে, মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব। অথচ সেই ধ্বংসাবশেষ থেকেই দিব্য হেঁটে বেরিয়ে আসছেন এক ব্যক্তি! কথা বলতে বলতে উঠে যাচ্ছেন অ্যাম্বুলেন্সে। এ এক আশ্চর্য ছবি। এয়ার ইন্ডিয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের মৃত্যু হলেও কী ভাবে বেঁচে গেলেন একমাত্র রমেশ বিশ্বাসকুমার। প্রশ্ন উঠছে শুধুমাত্র ভাগ্যের জোর নাকি বিমানের ’১১-এ’ সিট’টাই বাঁচিয়ে দিল তাঁকে?
আহমেদাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, রমেশ বিশ্বাসকুমার এয়ার ইন্ডিয়ার অভিশপ্ত বিমানের ১১এ আসনের যাত্রী ছিলেন। ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরেই তিনি বেরিয়ে আসেন। কিন্তু ‘১১-এ’ আসনটি বিমানের ঠিক কোথায়?
বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারে ’১১-এ’ আসনটি ঠিক কোথায়?
২০১৩ সালে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি কেনে এয়ার ইন্ডিয়া। অন্যতম আধুনিক বিমানগুলির মধ্যে এটি একটি। এয়ারক্রাফটের ডিজাইন অনুযায়ী, ইকোনমি ক্লাসের প্রথম সারিতে রয়েছে এই ’১১-এ’ আসনটি, যা কিনা একে বারে বিজনেস ক্লাসের পিছনে। এয়ারক্রাফটের বাঁ দিকের জানলার ধারের একটি সিট। তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই সামনের দিকে। সেই কারণে রমেশের অভিশপ্ত বিমান থেকে বেরিয়ে আসা অনেকটাই সহজ হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এই ঘটনার পর অনেকেই মনে করছেন, আগামিদিনে ১১এ আসনে টিকিটের চাপ বাড়তে পারে।
কী ভাবে বেঁচে গেলেন রমেশ?
বর্তমানে আহমেদাবাদের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রমেশ বিশ্বাসকুমার। শরীর জুড়ে একাধিক ক্ষত। হাসপাতালে শুয়েই সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে টেক অফের কিছুক্ষণ পরেই ব্যাপক আওয়াজ হতে শুরু করে। আর এর পরেই এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি ভেঙে পড়ে। সব কিছু এত তাড়াতাড়ি ঘটে যায় যে, কেউ কিছু বুঝতে পারেননি বলে জানান রমেশ। তাঁর কথায়, “জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম, আমার চারপাশ জুড়ে শুধুই লাশ! ভয়ে শিউরে উঠেছিলাম, কিছু না ভেবেই দৌড়তে শুরু করি।” কে বা কারা হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে আসে স্পষ্ট নয় বলেও জানিয়েছেন রমেশ। হাসপাতালে রমেশের সঙ্গে দেখা করে তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদী।
