মুহাম্মদ ইউনূসের ‘নতুন বাংলাদেশে’ আক্রান্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও! ভাঙচুর চালানো হয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে। যা নিয়ে সর্বত্র নিন্দার ঝড়। ক্ষুব্ধ এপার বাংলার মানুষও। ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আর্জিও জানানো হয়। তীব্র নিন্দা করে বিদেশমন্ত্রক। যা নিয়ে প্রবল চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ সরকার। আর এর পরেই রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত কাছারিবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিবৃতি দিল সে দেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রক। রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত কোনও নিদর্শন নষ্ট হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের দৈনিক ‘প্রথম আলো’য় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তবর্তী সরকারের তরফে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রক এই বিবৃতি দিয়েছে। যেখানে মন্ত্রকের দাবি, ‘হামলায় ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বাইরে কোনও সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।’ এই ঘটনায় ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পৃথক ভাবে দু’টি তদন্ত করছে। এখনও পর্যন্ত ভাঙচুর এবং কর্মীদের মারধরের ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও খোঁজ চালানো হচ্ছে।
ওই সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জারি করা বিবৃতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রকের দাবি, ‘রবি ঠাকুরের কাছারিবাড়ি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। দেশ-বিদেশ থেকে প্রতি বছর মানুষ যান স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িটি দেখতে। গত ৮ জুন ভুল বোঝাবুঝির কারণেই হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।’ এ প্রসঙ্গে অন্তবর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের দাবি, ‘কাছারিবাড়ির কর্মী এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে পার্কিং টিকিট নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়, এর পরে কথাকাটি। তার জেরেই হাতাহাতি এবং মারধরের ঘটনা।’
তবে এই ঘটনায় কোনও নির্দশনের ক্ষতি হয়নি বলেই দাবি ইউনূস সরকারের। এমন কী কাছারিবাড়িতে কবিগুরুর সম্মান বা মর্যাদাহানিকর কিছু ঘটেনি বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্য দিকে, ঘটনার পর থেকেই বন্ধ ছিল ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি। সেটি ফের একবার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে যাতে আর কোনও অশান্তি না ঘটে সে জন্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রথম আলোর প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছে।
