বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবদান লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কেমন তার গতি? সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারকে ভিত্তি করে তৈরি করা একটি সারণি প্রকাশ করেছে নামি বিদেশি সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’। সেই তথ্য তুলে ধরে আর এক বিদেশি সংবাদমাধ্যম ‘আরটি’-র দাবি, ইউরোপের এগিয়ে থাকা দেশগুলি তো বটেই, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবদান ছাপিয়ে যাবে আমেরিকাকেও। আর কে না জানে, বিশ্ব অর্থনীতিতে যার অবদান যত বেশি, দুনিয়া জুড়ে দাপটও তার।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ডঙ্কা! যে ভাবে পরমাণু ঘাঁটিকে নিশানা করেছে ইজরায়েল, তা যুদ্ধ হিসাবে দেখা হবে বলে স্পষ্ট করেছে তেহরান। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ থামার নাম নেই। এর মধ্যেই আরও একটি সংঘাত বিশ্বকে নতুন করে বিপদের দিকে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। বিশেষ করে বিশ্বের অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা। ইতিমধ্যে পশ্চিম এশিয়ার বুকে যুদ্ধের পরিস্থিতি তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। এক ধাক্কায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির উপর সরাসরি তার প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যবসা থেকে শুরু করে একাধিক ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাবের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাধা পেতে পারে একাধিক দেশের অর্থনীতির গতি। তবে এ ক্ষেত্রে ‘কিংমেকার’ হতে চলেছে ভারত।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত। সম্প্রতি জাপানকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নীতি আয়োগের সিইও। সম্প্রতি আইএমএফ ডেটার তথ্য তুলে ব্লুমবার্গ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কোন কোন দেশের প্রভাব থাকবে সেই সংক্রান্ত একটি তথ্য রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। আর তাতে দেখা যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত তাবড় দেশগুলিরও আগে।
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩০ এর মধ্যে বিশ্বের অর্থনীতিতে চিনের প্রভাব থাকবে ২৩ শতাংশ। যা সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে। দ্বিতীয় স্থানেই থাকবে ভারত। ‘গ্লোবাল ইকনমিক গ্রোথে’ ভারতের অবদান হবে ১৫.২ শতাংশ। এর পর আমেরিকা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের দেশের গ্রোথ রেট ১১.৩ শতাংশ। এর পরেই ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক। তালিকার একেবারে শেষে জাপান। ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রশংসা করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। ইউএন বলছে যে, ভারত বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে ক্রমশ উঠে আসবে। এমনকী আগামিদিনে চিন, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সকলেই পিছিয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থ বছরে ভারতীয় অর্থনীতি ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।
গত এক দশকে ভারতের অর্থনীতি যে বৃদ্ধি দেখেছে, তা যে এখনই কমছে না, বরং বেড়েই চলেছে, আইএমএফের হিসেব সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। যেখানে একটা বিষয় স্পষ্ট, আগামিদিনে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম অংশীদার হয়ে উঠতে চলেছে ভারত।
