আমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড়ে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়া-র বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমান। বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৪১ জন যাত্রী। সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় বিমানটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় বিমান পরিবহন ইতিহাসে এই দুর্ঘটনা সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিমা প্রদানের উদাহরণ হতে চলেছে। সম্ভাব্য বিমা ক্লেমের পরিমাণ ২,৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে খবর।
এই ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণত বিমান সংস্থাগুলি যেসব বিমা কভার করে রাখে, তার মধ্যে থাকে বিমানের মূল কাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি, যন্ত্রাংশের ক্ষতি এবং যাত্রীদের মৃত্যু বা আহত হওয়া সংক্রান্ত আইনগত ক্ষতিপূরণ। আর এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় যেহেতু সব ধরনের ক্ষতি হয়েছে, ফলে প্রতিটি কভারই একসঙ্গে কার্যকর হবে।
জেনারেল ইনশিওরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া- রিইনশিওরেন্স-এর চেয়ারম্যান রামাস্বামী নারায়ণন জানান, বিমানের বিমা মূল্য কত ছিল, তা সংস্থা আগে থেকেই ঘোষণা করে রাখে। আর সেই মূল্য অনুযায়ী ক্ষতির হিসাব করা হয়। ভেঙে পড়া বিমানটি ছিল ২০১৩ সালের মডেল বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার। এর বিমা মূল্য ২০২১ সালে ছিল প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার। তবে বর্তমানে এই ধরনের বিমানের বাজারমূল্য ২১১ থেকে ২৮০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হওয়ায়, ক্ষতির হিসাব সেই অনুযায়ী করা হবে।
হাউডেন ইন্ডিয়া-র সিইও অমিত আগরওয়াল জানান, অনেক সময় বিমান সংস্থাগুলি অতিরিক্ত বিমা কভারও নিয়ে থাকে, যাকে বলে ‘হুল ওয়ার রিস্ক কভার’। যুদ্ধ বা সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে সেই কভার কার্যকর হয়। যদিও এই ঘটনায় এখনো যুদ্ধ বা জঙ্গি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে না।
এই দুর্ঘটনায় বিমানটি একটি বসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়ে। ফলে যাত্রী ছাড়াও অন্যান্য মানুষজন ও তাদের সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়েছে। তাই শুধু যাত্রীদের প্রতিই নয়, অন্যান্য যাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের প্রতিও দায়বদ্ধ বিমা সংস্থাগুলি। এই ধরনের ক্লেম সাধারণত একাধিক ইনশিওরেন্স ও রিইনশিওরেন্স সংস্থার মধ্যে ভাগ করে মেটানো হয়।
যাত্রীদের পরিবার কত ক্ষতিপূরণ পাবেন, তা নির্ধারিত হবে ‘মন্ট্রিল কনভেনশন ১৯৯৯’ অনুযায়ী। তাতে ভারত যোগ দেয় ২০০৯ সালে। এই আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে, বিমান দুর্ঘটনায় মৃত প্রত্যেক যাত্রীর পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ ১,২৮,৮২১ এসডিআর (স্পেশাল ড্রইং রাইটস) ক্ষতিপূরণ ধার্য হতে পারে। বর্তমান হারে ১ এসডিআর-এর মূল্য প্রায় ১.৩৩ মার্কিন ডলার। তাই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বিশাল। এয়ার ইন্ডিয়া বর্তমানে টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন। তাই দুর্ঘটনার পর টাটা গ্রুপ জানিয়েছে, মৃত যাত্রীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
