একটা সংখ্যা, ১২০৬ । যা জীবনের প্রতিটি ধাপে ছায়ার মতো পাশে ছিল। আর একদিন, ঠিক সেই সংখ্যাই হয়ে উঠল বিদায়ের তারিখ। কাকতালীয়? নাকি কোনও অলৌকিক যোগ? বিমান দুর্ঘটনায় গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণীর মৃত্যুর পর এই প্রশ্নে মুখর গোটা দেশ।
১২ জুন ২০২৫, আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রিমলাইনার বিমান ভেঙে পড়ে ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। বিমানের সব যাত্রীর মৃত্যু হয়। আশ্চর্যজনক ভাবে বেঁচে যান এক যাত্রী। ওই বিমানেই ছিলেন রূপাণী। যাচ্ছিলেন লন্ডনে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে।
দুর্ঘটনার খবরে যখন সবাই শোকাহত, তখনই উঠে আসে একটি অদ্ভুত তথ্য। রূপাণীর প্রিয়তম নম্বর ছিল ১২০৬। জানা যায়, তাঁর সব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন প্লেটেই ছিল এই সংখ্যা। এমন কি, প্রথম জীবনে যখন স্কুটার নিয়ে ঘুরতেন রূপাণী, সেই স্কুটারের নম্বরও ছিল ১২০৬। ঘনিষ্ঠরা বলেন, এই সংখ্যাকে তিনি মনে করতেন ‘লাকি’। এক রকম রক্ষাকবচের মতো ছিল এটা তাঁর জীবনে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস রূপানির মৃত্যু হয় ১২/০৬, অর্থাৎ জুনের ১২ তারিখই!
এতেই থেমে যায়নি মিল। তাঁর সিট নম্বর ছিল ১২, বোর্ডিং টাইম ছিল ১২টা ১০ মিনিট। সব যেন জুড়ে দিচ্ছে এক অলিখিত সূত্রে। কেউ বলছেন, এটা নিছক কাকতালীয়, এমন মিল হতেই পারে। কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কী ভাবে একজনের এত বছর ধরে বাছা নাম্বারটাই হয়ে যায় তাঁর শেষদিন? এটা কি শুধুই মিল, না এর পেছনে আছে অন্য কিছু। নেটমাধ্যমে চলছে জোর আলোচনা। “১২০৬ শুধুই সংখ্যা নয়, ওটা যেন ভাগ্যের কোড,” লিখেছেন এক ব্যবহারকারী। কেউ বলছেন, “বিশ্বাস না করলেও, সংখ্যা আমাদের জীবনে কোথাও যেন লুকিয়ে থাকে।”
সংখ্যা নিয়ে বহু আগে থেকেই ছিল চর্চা। জ্যোতিষ, নিউমারোলজি, এমন কি ধর্মীয় দর্শনেও। কিন্তু এই ঘটনা যেন সব যুক্তির বাইরে গিয়ে ছুঁয়ে দিল এক গভীর প্রশ্ন, আমাদের জীবন কি আগে থেকেই নির্ধারিত?
