বাজার থেকে খাবার হোক কিংবা কোনো জিনিস এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছনোর ক্ষেত্রে ভরসা অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপ! কাঁধে ব্যাগ বেঁধে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে চলেছে ডেলিভারি কর্মীরা। রোদ হোক কিংবা ঝড়-বৃষ্টি, সমস্ত কিছু উপেক্ষা করেই ছুটে চলতে হচ্ছে তাদের। আর এই সমস্ত কর্মীদের কথা মাথায় রেখেই অভিনব উদ্যোগ গ্রেটার চেন্নাই কর্পোরেশনের।
প্রত্যেকদিনের ছোটাছুটির মধ্যেই এবার ঠান্ডা ঘরে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ডেলিভারি কর্মীদের। দেশে প্রথম এই কর্মীদের কথা ভেবে তৈরি করা হল এসি লাউঞ্জ। এই আধুনিক বিশ্রামাগারে একসঙ্গে ২৫ জন বসে বিশ্রাম করতে পারবেন। রয়েছে খাবারের ব্যবস্থা, পরিষ্কার বাথরুম সহ সমস্ত আধুনিক ব্যবস্থা। ‘গিগ ইকোনমি’র সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কাছে স্মার্টফোন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্ত কিছু এই ফোনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। আর সেই কারণে এসি লাউঞ্জে মোবাইল ফোন চার্জ করার সুবিধাও থাকবে।
গ্রেটার চেন্নাই কর্পোরেশনের তরফে প্রাইলট প্রজেক্ট হিসাবে এই প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক বিশ্রামগার তৈরি হয়েছে। যা প্রবল এই গরমে কিছুটা হলেও ডেলিভারি কর্মীদের স্বস্তি দিচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা অ্যাপ কর্মীদের কাছে এই এসি লাউঞ্জ খুবই কাজের হয়ে উঠেছে। অনুপ্রিয়া বলে এক মহিলা ডেলিভারি এজেন্ট জানাচ্ছেন, আমাদের কাছে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেওয়ার জন্য কোনও জায়গা ছিল না। হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁর বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হত। কিন্তু এই লাউঞ্জ তৈরি হওয়ার পর সেখানেই বিশ্রাম নিতে পারছেন বলে জানিয়ছেন অনুপ্রিয়া। এমনকী রাতেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকায় সেখান থেকে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন অনুপ্রিয়া।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও এক ডেলিভারি এজেন্ট জানিয়েছেন, চেন্নাইয়ের গরমে কিছুটা হলেও স্বস্তির সুখ পাওয়া যাচ্ছে। ওই এজেন্টের কথায়, প্রখর রোদকে মাথায় নিয়েই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে যেতে হয়। কখনও গাছের নীচে তো আবার কখনও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েই বিশ্রাম নিতে হতো। কিন্তু এই এসি লাউঞ্জ হয়ে যাওয়াতে তাঁরা এখানেই চলে আসছেন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মী।
