এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার পর প্রায় কেটে গিয়েছে ২৪ ঘণ্টা। এখনও স্বাভাবিক নয় পরিস্থিতি। শুক্রবার সারা দিনই চলেছে উদ্ধারকাজ। বিমানে ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। বেঁচে গিয়েছেন একজন! তিনি রমেশ বিশ্বাসকুমার। অভিশপ্ত বিমানের 11A সিটের যাত্রী ছিলেন তিনি। চার পাশে যখন ছড়িয়ে লাশ, সেই সময় রমেশের বেঁচে ফেরাকে ‘মিরাকল’ বলছে নেট দুনিয়া। বলা হচ্ছে তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী। কোনও অংশেই চমৎকারের থেকে কম নয়।
ফ্রান সেলকের জীবনও সিনেমার চিত্রনাট্যের থেকে কম কিছু নয়। জীবনে একাধিক বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। এমনকী দুর্ঘটনায় সবার মৃত্যু হলেও বেঁচে গিয়েছেন ফ্রান। এক ‘অদৃশ্য শক্তি’ যেন বার বার তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে। ফ্রানের জীবনে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনা একেবারে অবাক করবে আপনাকে।
দীর্ঘ জীবনে বাস, ট্রেন, বিমান… একাধিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে চেখে দেখেছেন ফ্রান সেলেক। প্রথম দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ১৯৫৭ সালে। বাস তাঁকে নিয়ে নদীতে পড়ে যায়। কয়েকজন যাত্রীকেই বাঁচানো সম্ভব হয়। যার মধ্যে ছিলেন ফ্রান। এমন কী ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার মুখোমুখিও হন তিনি। কিন্তু সেবারও সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে আবার ফিরে আসেন। এখানেই শেষ নয়, বিমানে ঘটেছিল ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। মাঝ আকাশে খুলে যায় ফ্রানের বিমানের দরজা। মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে বিমান। সমস্ত যাত্রীর মৃত্যু হয়। সে বারও বেঁচে যান একা ফ্রান। মাটিতে থাকা ঘাস সে যাত্রায় তাঁকে বাঁচিয়ে দেয়। ফ্রানের দীর্ঘ জীবনে ঘটনার শেষ নেই। দু’বার গাড়ি বিস্ফোরণ হয় কিন্তু বেঁচে যান। একবার ইঞ্জিনে বিস্ফোরণ ঘটে গোটা গাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলে যায়। কিন্তু মুহূর্তে গাড়ি থেকে লাফ মেরে বেঁচে যান ফ্রান। আরও একবার একই ভাবে গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। কিন্তু কথায় আছে না ‘যমের অরুচি’। সে বারও মৃত্যু ফ্রানকে ছুঁতে পারেনি।
জীবনের শেষটায় যে আরও কিছু অপেক্ষা করছিল তা ভাবতে পারেননি ফ্রান। বারবার বেঁচে ফেরার পর কোটি টাকার লটারি জেতেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.৩ কোটি টাকার পুরস্কার। যা দিয়ে আরামের জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু ফ্রান সব দরিদ্রদের দিয়ে দিয়েছিলেন। বিলাসবহুল বাড়ি কিনলেও সেটিও কয়েক বছর পর বিক্রি করে দেন। বরং একটা ছোট্ট ঘরেই স্ত্রীকে নিয়ে আরামের সংসার বেছে নিয়েছিলেন ফ্রান।
