সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকে মান্যতা দিয়ে বাংলাদেশি চরমপন্থীদের লাগাম টানার জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে বার্তা দিল দিল্লির সাউথ ব্লক। বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালো দিল্লি। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিরাজগঞ্জের এই ঘটনা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, উত্তরাধিকার এবং সবাইকে নিয়ে চলার মতাদর্শকে ধ্বংস করতে চাইছে। সহিষ্ণুতার প্রতীককে মুছে দেওয়ার যে বৃহত্তর নকশা, এই ঘটনা তারই অন্তর্গত বলেও দাবি করেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন ” আমরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সে দেশে চরমপন্থীদের লাগাম পড়ানো হোক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের চরমপন্থী আক্রমণ ঘটেই চলেছে প্রতিবেশী দেশে। আমাদের দাবি অবিলম্বে এই চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
উল্লেখযোগ্য গত ৮ জুন বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃক বাড়ি যা কাছারিবাড়ি বলে বিখ্যাত সেই বাড়ি ভাঙচুর করে ধ্বংসাবশেষে পরিণত করেছেন প্রতিবেশী দেশের চরমপন্থীরা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিরাজগঞ্জের এই ঘটনা শুধু মর্মান্তিক নয় আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যের উপর আঘাত বলেও প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বিবৃত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোবেলজয়ী যে বিশ্বকবি বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদ জানিয়ে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে এক সূত্রে গেঁথেছিলেন তাঁরই পৈতৃক বাড়ির ওপর এ ধরনের হামলা শুধু ঘৃণ্যই নয়, সবাইকে নিয়ে চলার যে দর্শন তাকেও ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মমতা। এই কাছারিবাড়ির সঙ্গে রবীন্দ্র সৃষ্টির অসংখ্য যোগ রয়েছে সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মমতার দাবি, অবিলম্বে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হোক এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আন্তর্জাতিকভাবে এই ইসুটিকে তুলে ধরা উচিত বলেও জানান মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি পাওয়ার পরই অবশেষে এ বিষয়ে নড়েচড়ে বসে ভারত সরকার। রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত এই কাছারিবাড়ির ঘটনায় গতকালই তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মমতার সুরেই ভারত সরকার বাংলাদেশকে জানিয়ে দেয় ” রবীন্দ্রনাথ শুধু একটি রাজ্যের বা একটি দেশের কবি নন, এই নোবেল জয়ী গোটা বিশ্বের সম্পদ। তাই সিরাজগঞ্জের ঘটনায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করতে হবে।”
