আবারও কান্নার সুর আকাশে। এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, ফ্লাইট AI-171, বৃহস্পতিবার দুপুরে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডন উড়ে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়ে শহরের মেঘানি নগরে। বিকট বিস্ফোরণ, আগুনের গোলা, ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষ—এই দৃশ্য যেন ফিরে আনল ১৯৮৮ সালের সেই মর্মান্তিক দিনের স্মৃতি।
তখন ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১৩, মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদে আসার পথে আবহাওয়ার খারাপ অবস্থায় রানওয়ের ২.৫ কিমি আগেই ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে। ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আজকের AI-171 ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনাতেও বহু মৃত্যুর আশঙ্কা।
তদন্তে জানা যাচ্ছে, মাটি ছাড়ার পরই পাইলট যান্ত্রিক ত্রুটির কথা এটিসিকে জানান। সঙ্গে সঙ্গে এমন কিছু একটা হয় যে পাইলটদের ‘মে ডে কল’ দিতে হয়। পর পর তিন বার। তার পর আর মাটি থেকে রেসপন্ড করার সুযোগ দেয়নি দুনিয়ার নিরাপদতম বিমানগুলির মধ্যে অন্যতম ড্রিমলাইনার। শেষরক্ষা হয়নি। এটি বোয়িং ৭৮৭ সিরিজের প্রথম ভয়াবহ ‘ফেটাল হল লস’ বলেই চিহ্নিত হচ্ছে। ২০১৩ সালে এই মডেলের ব্যাটারি সমস্যার কারণে গোটা ফ্লিটই একবার সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
এর আগে কোঝিকোড় (২০২০), ম্যাঙ্গালোর (২০১০), ইম্ফল (১৯৯১), অরঙ্গাবাদ (১৯৯৩)—এই সব জায়গায় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ। আজকের ঘটনা সেইসব ভয়াবহ ইতিহাসকে নতুন করে জাগিয়ে দিল।
দায় চাপানো, তদন্ত, রিপোর্ট—এই চক্রে সত্য কতটা সামনে আসে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু যাঁরা পরিবার হারালেন, তাঁদের যন্ত্রণা কি কখনও পূরণ হয়? প্রশ্ন উঠছে—আকাশে উড়ে চলা যাত্রাটা এখনও কি নিরাপদ? নাকি ভুল, গাফিলতি আর প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে বারবার প্রাণ বলি দিতে হবে?
