৬৫০ ফুট উঁচুতে বিমানে ত্রুটি ধরা পড়ে। পাইলট ইমার্জেন্সি কল মে ডে দিয়েছিলেন। কিন্তু এটিসির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনা ঘিরে একাধিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ খুলল অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, দুপুর ১ টা ৪০ মিনিটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর থেকে দু’কিলোমিটার দূরেই সেটি ভেঙে পড়ে।
তবে কীভাবে বিমান ভেঙে পড়ল তা এখনও স্পষ্ট নয়। মন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্তের জন্য হাইলেভেল কমিটি গঠন করা হয়েছে। এনআইএ সহ একাধিক সংস্থা ঘটনার তদন্ত করছে। তবে এক্ষেত্রে উদ্ধার হওয়া ব্ল্যাকবক্স খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন রামমোহন নাইডু। তাঁর কথায়, শুক্রবার পাঁচটা নাগাদ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, ‘ডিকোড’ করা হচ্ছে ব্ল্যাকবক্স। এরপর দুর্ঘটনার কারণ অনেকটাই স্পষ্ট হবে। এক্ষেত্রে যদিও বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও দাবি।
অন্যদিকে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সচিব সমীরকুমার সিনহা জানিয়েছেন, অভিশপ্ত বিমানটি দুপুর ১ টা বেজে ৩৯ মিনিটে টেকঅফ করেছিল। প্রায় ৬৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছনোর পর সেটিতে সমস্যা ধরা পড়ে এবং ক্রমশ নীচের দিকে নামতে শুরু করে। তাঁর কথায়, দুপুর ১:৩৯ মিনিটে এটিসিকে জরুরি পরিস্থিতির বিষয়ে তথ্য দিয়েছিলেন পাইলট। কিন্তু এটিসির যোগাযোগের আগেই সব শেষ!
সমীরকুমার সিনহার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটিসি জানিয়েছে, যে সময়ে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, তখন কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। সচিবের কথায়, ঠিক এক মিনিট পরেই বিমানবন্দর থেকে দু’কিলোমিটার দূরে মেঘানিনগর বলে একটি এলাকায় থাকা একটি হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে। আর এরপরেই আহমেদাবাদ বিমানবন্দর সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রোটোকল সম্পূর্ণ হওয়ার পর ফের খোলা হয় বলে দাবি মন্ত্রকের।
মন্ত্রকের দাবি, অভিশপ্ত বিমানটি দুর্ঘটনার আগে প্যারিস থেকে দিল্লি এবং দিল্লি থেকে আহমেদাবাদের মধ্যে চলাচল করেছিল। কিন্তু কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে এই ঘটনার পরেই সমস্ত বোয়িং ৭৮৭-এর ‘স্বাস্থ্যপরীক্ষা’র নির্দেশ দিয়েছে ডিজিসিএ। বিশেষ করে এয়ার ইন্ডিয়াকে সমস্ত কিছু পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
