একটা ট্যাগ ছিল বহুদিনের সঙ্গী—‘চোকার্স’। যতবার নকআউট, ততবার স্বপ্নভঙ্গ। বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমে প্রতিবারই ফিরে আসা হতো ঝলমলে ট্রফি ছোঁয়ার আগেই। কিন্তু আজ লর্ডসে, দক্ষিণ আফ্রিকার সেই অধ্যায় শেষ হল। প্রথমবারের মতো আইসিসি টুর্নামেন্ট জিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি ঘরে তুলল প্রোটিয়ারা।
কতবার যে হাতছানি দিয়ে সরে গিয়েছে জয়—১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭, ২০১৫, ২০২৩—পাঁচ-পাঁচটা ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হোঁচট। কোয়ার্টারে বিদায় ১৯৯৬ আর ২০১১-তে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনালে হেরে যাওয়া মাত্রই গত বছর, তার আগে সেমিফাইনালে নতজানু ২০০৯ আর ২০১৪-তে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও একের পর এক সেমিফাইনাল হার—২০০০, ২০০২, ২০০৬, ২০১৩, এমনকি চলতি বছরের ২০২৫-তেও। যেন নকআউট দেখলেই পায়ের নীচের মাটি সরে যেত।
কিন্তু আজ নয়। আজ দক্ষিণ আফ্রিকা কাঁপিয়েছে, থেমে থাকেনি। আজ ওরা ইতিহাস গড়েছে, গড়েনি চোকার্স রেকর্ড। ব্যাট-বল-ফিল্ডিং—তিন বিভাগে নিখুঁত পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করে দিল, গায়ে লেগে থাকা গ্লানি ধুয়ে ফেলা যায়।
এই জয় শুধু একটা ট্রফি জেতা নয়—এটা অতীতকে পেছনে ফেলে দেওয়ার, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার এক অপার গল্প। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট মানে আর শুধুই হারের কষ্ট নয়, আজ থেকে সেটা চ্যাম্পিয়নদের গল্প। ইতিহাস এখন ওদের পাশে।
