একটা বড় কাজের লক্ষ্যে ‘জি সেভেন’ বৈঠক থেকে তাড়িঘড়ি ফিরে ইরানের কাছে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিন একাধিক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে হত্যা করার পদক্ষেপ তিনি করছেন না।তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চাইলে আমেরিকা তাঁকে হত্যা করতে পারে।
বৈঠক শেষ হওয়ার একদিন আগেই ট্রাম্পের জি৭ ছাড়া নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন জি৭ সম্মেলন থেকে তাঁর আগাম বিদায়ের সঙ্গে এই যুদ্ধের কোনও সম্পর্ক নেই। যুদ্ধবিরতির চেয়েও অনেক বড় কিছু উদ্দেশ্য নিয়েই তার বৈঠক ত্যাগ বলেই জানিয়েছেন ট্রাম্প।আর তা নিয়েই নিয়েই তৈরি হয় বড় কৌতূহল। ট্রাম্প মঙ্গলবার সকালেই জানান, তিনি ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের ‘একটা বাস্তব ও চূড়ান্ত সমাধান’ চান। তাঁর কথায়, “আমি কোথাও বলিনি, যুদ্ধবিরতি চাইছি। আমরা যুদ্ধবিরতির চেয়েও ভালো কিছু চাই।”
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি জানান যে ইরান চুক্তিটা করে ফেলতে পারত। পাশাপাশি তিনি জানান, কূটনৈতিক পথ এখনও খোলা রয়েছে। প্রয়োজনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি ট্রাম্প আরও জানান যে এই মুহূর্তে খামেনেইকে সরানোর পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসা হয়েছে মার্কিন নাগরিক এবং সেনাদের ওপর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা এড়াতে। তিনি ইরানের কাছে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন।
২য় বার ক্ষমতায় এসেই ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ইরান বারবার জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও তা নিশ্চিত করে। গত মার্চে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড কংগ্রেসে জানান, ইরান ২০০৩ সালে যেই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করেছিল, তা এখনও পুনরায় চালু করেনি। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে বলেই মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
Leave a comment
Leave a comment
